৫০০ কোটি টাকার সড়ক এখন ময়লার ভাগাড়

৫০০ কোটি টাকার সড়ক এখন ময়লার ভাগাড়
চাষাঢ়া-সাইনবোর্ড লিংক রোডটি ঢাকার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলার যোগাযোগের প্রধান সড়ক। ছবি: আমার দেশ

চাষাঢ়া-সাইনবোর্ড লিংক রোডটি ঢাকার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলার যোগাযোগের প্রধান সড়ক। যানজট নিরসন, যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করা এবং নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয় লেনে উন্নীত করা হয়েছে ২০২৫ সালের জুনে। শুধু সড়ক প্রশস্তকরণই নয়, সৌন্দর্যবর্ধনেও ব্যয় করা হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা। সড়কের ডিভাইডারে রোপণ করা হয়েছে বিভিন্ন ফুলের গাছ। আট কিলোমিটার সড়কে বসানো হয়েছে প্রায় ৭০০ সড়ক বাতি। অথচ সড়কের পাশে ফেলে রাখা ময়লা-আবর্জনার স্তূপ পথচারীদের যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৫০০ কোটি টাকার সড়ক ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হলেও ভ্রুক্ষেপ নেই জেলা প্রশাসন বা নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে যানজট নিরসন ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতে ২০২০ সালে ৮ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্প হাতে নেয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৬৪ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। পরবর্তীতে প্রকল্পের মেয়াদ ও নির্মাণ ব্যয় বাড়িয়ে খরচ নির্ধারণ করা হয় ৪৮৯ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২০২৫ সালের জুনে প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়। তবে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর নগরবাসীর কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। সড়কের কোথাও ময়লার স্তূপ, আবার কোথাও যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে চাঁনমারী থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত প্রায় ৪৫০ মিটার অংশ সংকীর্ণ হওয়ায় সেখানে প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা যায়, চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড যাওয়ার পথে শহীদ রিয়া গোপ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনের অংশে সড়কের ওপর ময়লা ফেলে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। জালকুড়ি যুব উন্নয়ন, ভূইগড় বাসস্ট্যান্ড ও মাহমুদপুর বাসস্ট্যান্ডের সামনে ময়লার ভাগাড় তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে সকালে ভ্যানে করে ময়লা এনে অস্থায়ীভাবে এসব স্থানে ফেলা হচ্ছে। ফলে সড়কের সার্ভিস লেনটি এক প্রকার বন্ধের উপক্রম। সড়কের এসব অংশ দিয়ে চলাচল করতে হয় নাক চেপে। তবুও ময়লা ফেলতে স্থায়ী ডাম্পের কোনো উদ্যোগ নেই জেলা প্রশাসক কিংবা সিটি কর্পোরেশনের।

পথচারী ও যানচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুধু বাসাবাড়ির ময়লাই নয়, বিভিন্ন হাসপাতালের বর্জ্যও এখানে ফেলা হয়। এতে দুর্গন্ধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের।

ভূইগড় বাজারের ক্ষুদ্র দোকানি নাইফ ইসলাম জানান, পুরো রাস্তাজুড়েই বিভিন্ন জায়গায় ময়লা ফেলা হয়। দুর্গন্ধের কারণে রাস্তা দিয়ে হাঁটাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ময়লা পচে পোকা তৈরি হয়ে রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে। আর বৃষ্টি হলে আমাদের দুর্ভোগ আরো বেড়ে যায়। এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, লিংক রোডে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধে নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমরা বিভিন্ন জায়গায় ময়লা রাখার ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করছি। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোর প্রত্যেকটি জায়গায় একটি নির্ধারিত ময়লা ফেলার জায়গা নির্ধারণ করছি। আপনারা সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলবেন, যেন আমরা সেটি তুলে ফেলতে পারি।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, আমরা পুরো লিংক রোড পরিষ্কার রাখতে চাই, যেন নারায়ণগঞ্জের মানুষ প্রবেশ করতেই প্রথমে একটি ভালো ধারণা হয়ে যায়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন