পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার চণ্ডীপুরে পরকীয়ার জেরে বৃদ্ধা শাশুড়িকে গলা টিপে হত্যার অভিযোগে পুত্রবধূ, তার কথিত প্রেমিক ও এক আত্মীয়সহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে বন্যা রানী পাল ও তাপস দেবনাথকে গ্রেপ্তার করে।
শুক্রবার রাতে নিহত নমিতা রানী পালের স্বামী রাধেশ্যাম চন্দ্র পাল বাদী হয়ে জিয়ানগর থানায় মামলা করেন।
মামলায় পুত্রবধূ বন্যা রানী পাল (৩২), কথিত প্রেমিক কামাল পঞ্চায়েত (৫৫), তাপস দেবনাথ (৪৪) এবং আরও দুজন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ৫ নম্বর চণ্ডীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নমিতা রানী পাল (৬০) ওই এলাকার বাসিন্দা রাধেশ্যাম চন্দ্র পালের স্ত্রী।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শ্যামল চন্দ্র পালের স্ত্রী বন্যা রানী পাল দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার কামাল পঞ্চায়েত নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন বলে পরিবারের অভিযোগ। বিষয়টি জানতে পেরে শাশুড়ি নমিতা রানী পাল প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে পরিবারে বিরোধ চলছিল। স্বজনদের দাবি, সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের স্বজনেরা জানান, লাশে নখের আঁচড়ের চিহ্ন, গলায় আঘাতের দাগ এবং হাতের শাখা ভাঙা অবস্থায় দেখা যায়। এছাড়া ঘরের দেয়ালে রক্তের দাগও পাওয়া গেছে। এসব আলামতের ভিত্তিতে তাদের ধারণা, নমিতা রানী পালকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের মেয়ে রঞ্জিতা অভিযোগ করে বলেন, ‘পরকীয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় আমার মাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
নিহতের স্বামী রাধেশ্যাম চন্দ্র পাল বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরে ফিরে এসে ঘরের সিটকানি খোলা দেখতে পান। ঘরে ঢুকে স্ত্রীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকার শুনে পেছনের দিক দিয়ে কামাল পঞ্চায়েত পালিয়ে যান বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে অভিযুক্ত বন্যা রানী পালের ফুফা তাপস দেবনাথ ঘটনার সময় ওই বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের সন্দেহ, তিনিও হত্যাকাণ্ডে জড়িত আছেন।
জিয়ানগর থানার ওসি মো. মোহব্বত খান বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আটক দুজনকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।’
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

