নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’-এর প্রাথমিক বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আয়োজনে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সি তিন হাজারের বেশি ক্ষুদে ক্রীড়াবিদ ১০টি পৃথক ইভেন্টে অংশ নিয়ে নিজেদের প্রতিভা ও ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছে।
বাছাইপর্বে ক্রিকেট, ফুটবল, দাবা, কাবাডি, অ্যাথলেটিকস, কারাতে, সাঁতার, ব্যাডমিন্টন, ভলিবল ও টেবিল টেনিস—এই ১০টি ইভেন্টে প্রতিযোগীরা অংশ নেয়। বিপুলসংখ্যক শিশু-কিশোরের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিভিন্ন ইউনিয়নের ক্রীড়াপ্রাঙ্গণে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আয়োজিত এ উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশ, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় অন্বেষণ এবং খেলাধুলাকে ভবিষ্যৎ পেশা হিসেবে গ্রহণের পথ তৈরি করা।
আয়োজকদের মতে, যথাযথ প্রশিক্ষণ, সুষ্ঠু পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ পেলে এই তরুণ ক্রীড়াবিদেরাই আগামী দিনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারবে।
বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি মাদক, কিশোর অপরাধ ও বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার ভূমিকা অত্যন্ত অপরিসীম। নিয়মিত ক্রীড়াচর্চা তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, অধ্যবসায়, নেতৃত্ব, দলগত মানসিকতা ও প্রতিকূলতা মোকাবিলার শক্তি গড়ে তোলে। এ কারণে তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া সুযোগের প্রসারণকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ক্রীড়ামোদিরা।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় তিন হাজারের অধিক শিশু-কিশোরের সরাসরি অংশগ্রহণ স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ ও সম্ভাবনার এক ইতিবাচক প্রতিফলন। এ ধরনের নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের চিহ্নিত করে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ তৈরি হলে তরুণদের কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীলতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে তরুণ ক্রীড়াবিদদের সাফল্য তাদের পরিবারকেও অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সাহায্য করবে। সেই বিবেচনায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং সুস্থ, দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার এক সম্ভাবনাময় প্রয়াস।
তৃণমূল থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের এই ধারা অব্যাহত থাকলে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ক্রীড়াঙ্গন আরও গতিশীল হবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ ক্রীড়া অঙ্গনে নতুন নতুন তারকা উঠে আসার পথ সুগম হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

