পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমে উঠেছে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কোরবানির পশুর হাটগুলো। ইতোমধ্যে বেড়েছে বিক্রিও। খামারিদের প্রত্যাশা হাটে এবার গরুর নায্য দাম পাওয়া গেলে বিগতদিনের লোকসান পূরণ করা যাবে।
শিবচরের চান্দেরচর, উৎরাইল, মাদবরেরচর, পৌরসভা হাট, কুতুবপুর, বাংলাবাজার, চেয়ারম্যান গেট, নিলখী বন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী হাটের পাশাপাশি রয়েছে অস্থায়ী পশুর হাট। জানা যায়, আগামী শুক্রবার পর্যন্ত এসব হাটে বিক্রি হবে কুরবানির পশু।
চেয়ারম্যান গেট হাটে গরু নিয়ে আসা ব্যবসায়ীরা বলেন, তিনদিন পরই ঈদ। এখন গ্রামের যারা কোরবানি দেবেন তারা গরু-ছাগল কিনবেন। তাছাড়া বেপারীরাও হাট থেকে গরু-ছাগল কিনে ঢাকার বিভিন্ন পশুর হাটে নিয়ে যাবেন। সেক্ষেত্রে মঙ্গলবার থেকে হাটে বেচাকেনা বাড়বে। হাটে মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা বেশি। দামও বেশি পাওয়া যায়।
মো. সজিব মিয়া নামে স্থানীয় এক খামারি বলেন, আমি কৃষি কাজের পাশাপাশি প্রতি বছরই ৬/৮টি গরু লালনপালন করি। আজ হাটে এনেছি। ৫ থেকে ৬ মন ওজন হবে একেকটি গরুর। দাম ভালো পেলে আমার পরিশ্রম সার্থক হবে। পরবর্তীতে গরু পালনের উৎসহ আমাদের বাড়বে।
রহমান মুন্সি বলেন, মাদবরচর হাটে সারা বছরই গরু-ছাগল বিক্রি হয়। কোরবানি উপলক্ষ্যে এই হাটে প্রচুর গরু-ছাগল বিক্রি হয়। আমি ৪টি গরু এনেছি। দরদাম চলছে এখনো বিক্রি হয়নি, দামে পোষালে ছেড়ে দেব।
আরেক ব্যক্তি আব্দুর কাদের বলেন, হাটে দাম মোটামুটি ভালোই। এবারের বাজার গতবারের তুলনায় এখন পর্যন্ত ভালো মনে হচ্ছে, হাটে গরু এনেছি গরমে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে বাতাস দিতে হচ্ছে।
গরু কিনতে আসা একাধিক বেপারী বলেন, আমরা হাট ঘুরে ঘুরে গরু কিনতেছি। ঢাকায় নিয়ে যাবো। গ্রামে বাজার একটু চড়াই মনে হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি একই সাথে গরমের তীব্রতা বাড়ছে। পশু নিয়ে বিপাকে রয়েছি।
এদিকে শিবচর প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর শিবচরের ৭৭২টি খামারে ১০ হাজার ৯৭০টি গরু এবং ১০ হাজার ৭৭০টি ছাগল কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর বিপরীতে গরুর চাহিদা রয়েছে ৯ হাজার ৮৫০টি এবং ছাগলের চাহিদা ১০ হাজার ৩৫০টি। এ বছর উপজেলায় উদ্বৃত্ত থাকছে মোট ১ হাজার ৫৪০টি পশু। এছাড়াও সাধারণ কৃষকরা কোরবানির জন্য আলাদা ভাবে গরু ছাগল বড় করেছেন। যেগুলো স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
শিবচর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা হরিশ চন্দ্র বোস বলেন, উপজেলা অনুমোদিত মোট ৬টি হাট রয়েছে। এছাড়াও একাধিক ছোট ছোট হাট রয়েছে। সেখানে আমাদের মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক থাকছে। এছাড়াও খামারিদের সার্বক্ষণিক আমরা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। গরমে পশুর জন্য সতর্ক থাকতে হবে খামারিসহ ব্যবসায়ীদের। আমাদের টিম হাটগুলোতে পশুর সেবায় নিয়োজিত থাকছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

