কিশোরগঞ্জ- ৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে ১৯৭৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। এরমধ্যে ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রয়াত প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও দলের পরাজয় ঠেকাতে পারেননি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বাবার হাতে গড়া দল ‘বাংলাদেশ জাতীয় দল’ বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়ন পেয়েছেন সৈয়দ এহসানুল হুদা। অন্যদিকে জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী।
তবে ভোটের মাঠে রয়ে গেছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত বিদ্রোহী প্রার্থী ইকবাল দলীয় প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার চেয়েও সংহত অবস্থানে রয়েছেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ পরিস্থিতি বদলাবে, এমন আশায় বুক বাঁধছেন বিএনপি প্রার্থী হুদা ও তার সমর্থকরা।
স্থানীয়রা মনে করছেন, এই নির্বাচনি বিএনপির দ্বন্দ্বকে কাজে লাগিয়ে এখানে জয়ের আশা করছে জামায়াত। দলীয় প্রার্থী অধ্যাপক মো. রমজান আলীর মাধ্যমে এখানে দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করতে চান নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। এ লক্ষ্যে তারা ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন । এ ছাড়া এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি এএইচএম কাইয়ুমকে (হাসনাত কাইয়ুম) নিয়েও আশাবাদী তার কর্মী-সমর্থকরা।
এ আসনে বর্তমানে মোট ৮ জন প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজন স্বতন্ত্র। তারা হলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি এএইচএম কাইয়ুম (হাসনাত কাইয়ুম)। বাকি ছয় প্রার্থী হলেন বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী অধ্যাপক মো. রমজান আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মুফতি মোহাম্মদ দেলাওয়ার হোসাইন কাসেমী, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ প্রার্থী মো. সাজ্জাদ হোসেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মাহবুবুল আলম এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট প্রার্থী মো. অলি উল্লাহ।
এখানে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা ও ‘বিদ্রোহী’ শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল সমানতালে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। ইকবালের বক্তব্য হচ্ছে, আমি ‘বিদ্রোহী’ নই, জনগণের প্রার্থী। জনগণ আমাকেই পছন্দ করে । আমাকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠাবে এটা আমার বিশ্বাস ।
জামায়াতের প্রার্থী রমজান আলী বলেছেন, আমি আগে থেকেই দুই উপজেলায় গণসংযোগ করছি। অন্যরা তো বলা যায়, ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর থেকে নেমেছেন। প্রায় ৮০ ভাগ ভোটারের সঙ্গে সরাসরি আমার যোগাযোগ হয়েছে। ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আমাদের নিজস্ব ভোটব্যাংক আছে। এর সঙ্গে সাধারণ ভোটার আমার ভরসা। মানুষ এবার পরিবর্তন চায়। একটা ভালো কিছু আশা করছি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

