বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের প্যারোলে মুক্তি না পাওয়া নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে নানা ধরনের মতামত প্রকাশ করছেন নেটিজেনরা। তবে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট করেছেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন।
জেলা প্রশাসক আমার দেশকে জানান, প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত একটি আবেদন শুক্রবার তার বাংলোতে আসে। বিষয়টি অবগত হওয়ার পর তিনি কারা কর্তৃপক্ষকে জানান। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, সাদ্দাম যেহেতু জেলার বাইরে কারাগারে বন্দি রয়েছেন, তাই ২০১৬ সালের কারা আইন অনুযায়ী প্যারোলে মুক্তি দেওয়া নিয়মবহির্ভূত। আবেদনকারীদের বিষয়টি জানানো হলে তারা সন্তোষ প্রকাশ করে চলে যান। এরপর এ বিষয়ে আর কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।
ছাত্রলীগের উপজেলা সভাপতি সাদ্দামের মামা মো. হেমায়েত উদ্দিন জানান, গত ২৩ জানুয়ারি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়। জেলা প্রশাসক তাকে বাগেরহাট জেলা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান। সেখানে জানানো হয়, প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার কোনো এখতিয়ার তাদের নেই। আইন অনুযায়ী যেই কারাগারে আসামি বন্দি আছেন, সেখানেই আবেদন করতে পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে আর কোনো উপায় না পেয়ে যশোর কারাগারে মরদেহ নিয়ে গেলে মাত্র তিন মিনিটের জন্য দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।
এর আগে, এর আগে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে ৯ মাসের শিশুসন্তানকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর গলায় রশি দিয়ে কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেন। শুক্রবার ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ এবং ঘরের মেঝে থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রাত সাড়ে ১০টার দিকে জানাজা শেষে রাত ১২টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
নিহত নারীর স্বামী জুয়েল হাসান সাদ্দাম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাকে গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি একাধিক মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


ছাত্রলীগ নেতার প্যারোল নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিল যশোর জেলা প্রশাসন