রাজবাড়ী শহরের কাদরিয়া সুপার মার্কেটে ব্যবসায়ী নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানাকে মারধরের ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাজবাড়ী থানায় আসামিদের হাজির করে থানার অফিসার ইনচার্জ গৌতম কুমার ঘোষ সাংবাদিকদের প্রেসব্রিফিং করেন।
ওসি জানান, নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানার করা মালমায় এজাহারভুক্ত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরো জানান, ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে উল্লেখিত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন, আ. জলিলের পুত্র হেলাল উদ্দিন, মৃত জমজম খানের পুত্র আব্দুল্লাহ আল সিয়াম ও দেলোয়ার হোসেনের পুত্র রুবেল হোসেন।
মামলায় এজাহার নামীয় ৯জন ও আরো ৫০/৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
উল্লেখ্য, ২৯ আগস্ট দুপুরে রাজবাড়ী শহরের কাপড় (কাদেরিয়া সুপার মার্কেট) বাজারের তিন ব্যবসায়ী ও এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে একদল নারী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। এর নেতৃত্ব দেন ব্যবসায়ী ও নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানা।
যেখানে বস্ত্র বিতানের মালিক আজিজ মন্ডল, রিয়াদিয়া বুটিকের মালিক খন্দকার আমিরুল খসরু (রাজিব), ট্রিম ফ্যাশনের মালিক কাজী নিয়ামুল হক এবং কর্মচারী শাহানা পারভীন (বৃষ্টি)-এর নাম উল্লেখ করে বক্তৃতা করে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে।
প্রতিবাদকারী নারী ব্যবসায়ী কাদেরিয়া সুপার মার্কেটে আস্থা পোশাক শিল্প নামে একটি বুটিক দোকানের মালিক। জাকিয়া সুলতানার দোকানে কাজ করা তারই কর্মচারী শাহনাজ পারভীন বৃষ্টির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। বৃষ্টি কাপড় বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আঁতাত করে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে- এমন কথা বলার পর প্রতিপক্ষের লোকজন জাকিয়ার ওপর চড়াও হয়।
পাশাপাশি জাকিয়া সুলতানা তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারী কর্মচারীদের দিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতো এমন অভিযোগও করেন।
একপর্যায়ে জাকিয়াকে ধাওয়া করে কাপড় বাজারের বাইরে নিয়ে গেলে সেখানে পুলিশ তাকে স্কট দিয়ে নিরাপদে নেওয়ার সময় জাকিয়াকে কিল-ঘুষি, থাপ্পড় ও লাথি মারতে থাকে।
পরে পুলিশের সহয়তায় তাকে থানায় নিয়ে গেলে সেখানেও ব্যবসায়ীরা তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পরে পুলিশ তার স্বামীর হেফাজতে পাঠিয়ে দেন।
আস্থা পোশাক শিল্পের মালিক জাকিয়া সুলতানা আমার দেশকে বলেন, আমি উইমেন চেম্বারের জেলা আহবায়ক, আমি নারী উদ্যোক্তা, আমার আন্ডারে ৫/৬শ মহিলা কাজ করে। রাজবাড়ী কাপড় বাজারের কতিপয় ব্যবসায়ী আমাকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবে। যে কারণে আমাকে এই বাজার থেকে উৎখাত করতে বদনাম রটানো হয়। আমার বিরুদ্ধে কোনো নৈতিক স্খলনের অভিযোগ থাকলে তারা প্রশাসনকে জানাতেন।
রাজবাড়ী বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক কাজী বেনজির আহাম্মেদ অদ্ভূত পরিস্থিতির পর এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
এদিকে মহিলা পরিষদ রাজবাড়ী জেলা শাখার পক্ষ থেকে প্রতিবাদসহ নারী উদ্যোক্তাকে লাঞ্ছিত করার প্রতিকার জানিয়ে রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এদিকে এই অপ্রীতিকর বিষয় নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিকৃত ও অপতথ্য প্রচার হওয়ায় রাজবাড়ীসহ সারা দেশে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। যে নারী ব্যবসায়ীকে মারধর করা হচ্ছে তিনি একই বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী জাকিয়া সুলতানা । তিনি ভোক্তা সংরক্ষণ অধিকারের কেউ নন। তাছাড়া রাজবাড়ী বাজারে ওই দিনে কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি।
এ বিষয়ে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিকারের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, ওই দিন তাদের কোনো মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়নি এবং রাজবাড়ীতে তাদের কোনো নারী অফিসার নেই।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

