গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের কায়েতপাড়া (ফাতেমা নগর) গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা কবির হোসেনের সূর্যমুখী ফুলের বাগান এখন আর শুধু একটি কৃষিজ উদ্যোগ নয়—এটি পরিণত হয়েছে এক দর্শনীয় স্থানে। দ্বিতীয়বারের মতো সফলভাবে সূর্যমুখী চাষ করে তিনি যেমন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তেমনি গ্রামীণ পর্যায়ে সৃষ্টি করেছেন একটি ভিন্নধর্মী বিনোদনকেন্দ্র।
শখেরবশে প্রথমে ছয় বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ শুরু করেছিলেন কবির হোসেন। সফলতা আসায় এবার তিনি চাষের পরিধি বাড়িয়ে ১২ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী আবাদ করেছেন। সরেজমিন দেখা যায়, ফুল ফোটা শুরু হতেই বাগানজুড়ে হলুদ রঙের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। চলতি মাসের শুরু থেকেই প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ এ বাগান দেখতে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় দর্শনার্থীর আগ্রহ আরো বেড়েছে।
দর্শনার্থীদের ঘিরে বাগান এলাকায় গড়ে উঠেছে অস্থায়ী খাবারের দোকান, শিশুদের খেলনার দোকান। ছবি তোলার জন্য স্থাপন করা হয়েছে নান্দনিক কারুকাজের গেট ও বসার স্থান। প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটাতে দর্শনার্থীরা বাগানের ভেতরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তুলছেন ছবি, উপভোগ করছেন গ্রামীণ সৌন্দর্য।
শুরুতে বিনামূল্যেই দর্শনার্থীদের জন্য বাগান উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন কবির হোসেন। তবে এতে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পরে জনপ্রতি ৩০ টাকা প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়।
উপজেলার এমসি বাজার এলাকা থেকে আসা কারখানা শ্রমিক কাওসার ও তার স্ত্রী দীপিকা বলেন, ‘ফেসবুকে বাগানের ছবি দেখে এখানে এসেছি। বাস্তবে এসে আরো বেশি ভালো লাগছে। পরিবেশ খুব সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর।
স্থানীয় বাসিন্দা সামান উল্লাহ বলেন, ‘আমাদের পাশের গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা কবির হোসেন এ বাগানটি করেছেন। সূর্যমুখীর তেল স্বাস্থ্যসম্মত। ভবিষ্যতে এটি শুধু লাভজনক কৃষি উদ্যোগ নয়, কৃষিভিত্তিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে। এতে অন্য তরুণ ও কৃষকরাও উৎসাহিত হবেন।’
কাওরাইদ থেকে আসা দর্শনার্থী ও ইউটিউবার শাওন বলেন, ‘গ্রামের মাঝে এমন একটি বাগান সত্যিই ভিন্নরকম আনন্দ দেয়। অনলাইনে দেখে এসেছি, বাস্তবে এসে আরো ভালো লেগেছে। পরিবেশ খুব পরিষ্কার ও সুন্দর।
কৃষি উদ্যোক্তা কবির হোসেন জানান, শখের পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করেই সূর্যমুখী চাষ করেছি। এর বীজ থেকে উৎপাদিত তেল ভোজ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায় এবং লাভও ভালো। প্রথমে ছয় বিঘা, পরে ১২ বিঘা জমিতে চাষ করেছি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বিনামূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশক দিয়ে সহযোগিতা করেছে। দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে কষ্ট হলেও এ সাফল্য আমাকে আগামী বছর আরো বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী করেছে।’
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, ‘বরমী ইউনিয়নের কায়েতপাড়া গ্রামে বারি সূর্যমুখীর একটি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি রোগবালাই ও পোকামাকড় দমন বিষয়ে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সূর্যমুখী চাষ বাড়লে ভোজ্যতেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ তেল পাওয়া যাবে। এ প্রদর্শনী দেখে অন্যান্য কৃষকরাও উদ্বুদ্ধ হবেন বলে আমরা আশাবাদী।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

