গাজীপুরের টঙ্গীতে ক্বারিউল কুরআন মাদরাসায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদ করে আলোচনায় সেই শাহজালাল রুমির খোঁজ মিলছে না। তাদের ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার শফিউদ্দিন একাডেমি রোডের ১৩০ নম্বর বাড়ির ৭৪/১ হোল্ডিংয়ের ৬/বি নম্বর ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখা যায়, সেটি তালাবদ্ধ।
বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার গত শুক্রবার থেকেই বাসায় নেই। তারা ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন এবং শাহজালাল রুমি মাঝেমধ্যে সেখানে আসতেন। বর্তমানে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী ও পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন বলে তত্ত্বাবধায়ক জানালেও রুমি এখন কোথায় আছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি।
এ বিষয়ে শাহজালাল রুমির শ্বশুর আলহাজ মোকারম আলী মুঠোফোনে বলেন, ‘রুমি দেশে আছেন, নাকি বিদেশে—তা আমি জানি না। আমরাও বর্তমানে আগের বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে এসেছি।’
তবে হোয়াটসঅ্যাপে এক প্রশ্নের জবাবে সোমবার রাতে এক খুদে বার্তায় রুমি সাংবাদিকদের জানান, ‘ভাই, আমি এই দেশেই আর নাই; সুতরাং আমি এগুলো নিয়ে আর ভাবছি না। যা হয় হোক। আপনারা সবাই ভালো থাকেন।’
এ ব্যাপারে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, ‘শাহজালাল রুমি দেশে না বিদেশে আছেন, আমার জানা নেই। তবে বাসায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।’ এদিকে মেয়েটিকে ওই শিক্ষক চুমু দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে এ ব্যাপারে কিছু বলা যাচ্ছে না।’
উল্লেখ্য, গত ২১ অক্টোবর ওই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনকে মারধরের পর পুলিশের হাতে তুলে দেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
পরে শাহজালাল রুমি বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন। এর পর মাদ্রাসার অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে দায়ের করা পাল্টা মামলায় রুমির বিরুদ্ধে মাদরাসায ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

