জাজিরায় বন্ধ হচ্ছে না বোমার বিস্ফোরণ, জনমনে আতঙ্ক

জাজিরায় বন্ধ হচ্ছে না বোমার বিস্ফোরণ, জনমনে আতঙ্ক
জাজিরা থানা, শরীয়তপুর। ছবি: আমার দেশ

শরীয়তপুরের জাজিরায় বন্ধ হচ্ছে না বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা। একের পর এক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেই চলেছে। এতে জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। একটি বিস্ফোরণের শব্দ থামতে না থামতেই আরেকটি বিস্ফোরণ। কখনো বসতবাড়ির টয়লেটের ছাদে, কখনো সেপটিক ট্যাংকে, আবার কখনো সংঘর্ষের মধ্যে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণহানি ও হতাহতের পরও যেন থামছে না শরীয়তপুরের জাজিরায় বোমা-ককটেলের আতঙ্ক। এতে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে জাজিরা পৌরসভার জামাল মাদবরের কান্দি এলাকায় শাহ আলম বেপারির একটি ভবনের ছাদে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিকট বিস্ফোরণে ভবনের ছাদের নিরাপত্তা গাইডওয়াল ভেঙে যায়। ছাদে থাকা পানির ট্যাংক ফেটে ছিটকে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

বিজ্ঞাপন

এর মাত্র একদিন আগে, সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার লাউখোলা এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় ককটেল বিস্ফোরণে মান্নান সরদার নিহত হন। ওই ঘটনায় আহত হন আরো অন্তত ১০ জন। প্রাণহানির মাত্র একদিন পরই ফের বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।

তবে জাজিরার বোমা আতঙ্ক নতুন নয়। গত ২৯ জুলাই সকালে উপজেলার বিকেনগর ইউনিয়নের কদম আলী মাদবর কান্দি গ্রামের জব্বার মাদবরের বাড়ির টয়লেটের ছাদে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এতে টয়লেটের ছাদ ধসে পড়ে এবং উপরের পানির ট্যাংকটি বিস্ফোরণের তীব্রতায় ছিটকে অন্য স্থানে পড়ে। এর ঠিক আগের দিন, ২৮ জুলাই বিলাসপুর ইউনিয়নের চেরাগ আলী বেপারি কান্দি এলাকায় একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের ওপর ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় সেপটিক ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শুধু জুলাই নয়, এর আগেও জাজিরায় বিস্ফোরকের ব্যবহার নিয়ে একাধিক ঘটনা ঘটেছে। গত ২০ জুন জাজিরা পৌরসভার কবিরাজকান্দি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শুনে পুলিশ তদন্তে নামে। পরে একটি পারিবারিক কবরস্থান থেকে বালতির মধ্যে রাখা ১২টি ককটেল উদ্ধার করা হয়। ককটেলগুলো ঘাস-লতাপাতার নিচে কাঠের গুঁড়ি দিয়ে আড়াল করে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এরও আগে জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নে পরিত্যক্ত ককটেল বিস্ফোরণে ১০ বছর বয়সি এক শিশুর ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গত ২৯ মে চরধুপুর চরকান্দি এলাকায় জমিতে পড়ে থাকা ককটেল হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করার সময় বিস্ফোরণটি ঘটে। শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

স্থানীয়রা জানান, জাজিরার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নভাবে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে।

সর্বশেষ বিস্ফোরণের খবর পেয়ে জাজিরা থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভবনের ছাদে ককটেল মজুত ছিল। কীভাবে সেখানে বিস্ফোরক গেল এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহমেদ বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত কি নাÑতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন