প্রাণে বাঁচলেন ৬৯ জন

গাজীপুরে গার্মেন্টসে আগুনের পর টঙ্গীতে গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড

গাজীপুরে গার্মেন্টসে আগুনের পর টঙ্গীতে গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড

গাজীপুর মহানগরে একই দিনে পৃথক দুটি স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে ডেগেরচালা এলাকার ফকির মার্কেট-সংলগ্ন মেট্রিক্স স্টাইল গার্মেন্টসের আটতলা ভবনে আগুন লাগে। এ সময় ভবনের বিভিন্ন স্থান ও ছাদে আটকা পড়া ৬৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় সন্ধ্যা ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এরপরও আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের কাজ চলছিল।

বিজ্ঞাপন

একই দিন বিকেলে টঙ্গীর পাগাড় সোসাইটি মাঠ এলাকায় একটি গোডাউনেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

শনিবার দুপুর ২টা ৪৪ মিনিটের দিকে মেট্রিক্স স্টাইল গার্মেন্টসের আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পাওয়ার এক মিনিটের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। বিকেল ৩টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করেন।

প্রাথমিকভাবে গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে কোনাবাড়ী ফায়ার স্টেশনের একটি, গাজীপুর ফায়ার স্টেশনের তিনটি এবং রাজেন্দ্রপুর ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়।

মোট চারটি ফায়ার স্টেশনের নয়টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাপণ কাজে অংশ নেয়।

আগুন লাগার পর ভবনে থাকা শ্রমিকসহ অন্যরা আতঙ্কিত হয়ে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। অনেকে ভবনের ওপরের দিকে উঠে ছাদে আশ্রয় নেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ভবনের বিভিন্ন স্থান ও ছাদে অভিযান চালিয়ে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করেন।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভবনটি থেকে ৬৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক মো. সালেহ উদ্দিন জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসা মানেই আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ হওয়া নয়। ভবনের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে আগুনের উৎস ও তাপ থাকার কারণে এরপরও আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণের কাজ চালানো হয়।

তিনি জানান, ঘটনাস্থলে পানির সংকট ছিল। এ কারণে আশপাশের বিভিন্ন হাইরাইজ ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে সংরক্ষিত পানি সংগ্রহ করে আগুন নির্বাপণের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

পাশাপাশি হাইরাইজ ভবনে অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় ব্যবহৃত বিশেষায়িত গাড়িও ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়। তবে সরু রাস্তার কারণে এসব গাড়ি ঘটনাস্থলে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এরপরও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রচণ্ড তাপের মধ্যে বিভিন্ন কৌশল ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে আগুনের উৎসে পৌঁছে নির্বাপণ কার্যক্রম চালান।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে একই দিন বিকেল ৪টার দিকে টঙ্গীর পাগাড় সোসাইটি মাঠ এলাকায় একটি গোডাউনে আগুন লাগে।

খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গোডাউনের আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার আলম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট কাজ করছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণসহ বিস্তারিত জানা যাবে।

গোডাউনের আগুনেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন