নাগরিক নিরাপত্তা জোরদার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে শরীয়তপুর শহরজুড়ে আধুনিক এআই প্রযুক্তিসম্পন্ন ১২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে জেলা প্রশাসন। প্রায় ১৪ কিলোমিটার এলাকা এই নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় এসেছে। প্রশাসনের দাবি, প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগের মাধ্যমে অপরাধ দমন, দ্রব্যমূল্য পর্যবেক্ষণ, মাদকবিরোধী কার্যক্রম ও সার্বিক জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, শহরের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি প্রধান সড়ক ও সংযোগপথের বিভিন্ন পয়েন্টে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পালং, আংগারিয়া ও মনোহর বাজারসহ বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কলেজ, বিদ্যালয়, হাসপাতাল, বাস টার্মিনাল, আদালত, ধর্মীয় উপাসনালয়, প্রশাসনিক কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও এই ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
শরীয়তপুর শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত কীর্তিনাশা নদী এবং ঢাকা, চাঁদপুর ও মাদারীপুরমুখী সড়ক যোগাযোগের কারণে শহরটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কীর্তিনাশা নদীর কোটাপাড়া এলাকায় নৌপথেও স্থাপন করা হয়েছে নজরদারি ক্যামেরা, যাতে নদীপথে চুরি-ডাকাতি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
সম্প্রতি শহরে ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও হত্যার মতো কয়েকটি ঘটনা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জেলা কেন্দ্রীয় মন্দিরের দুটি দানবাক্স ভেঙে অর্থ লুটের ঘটনা এবং এর আগে কীর্তিনাশা নদীতে ডাকাতির সময় গণপিটুনিতে সাতজন নিহত হওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিসংযোগের চেষ্টার অভিযোগও উঠে আসে। এমন প্রেক্ষাপটে নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন এই উদ্যোগ নেয়।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত আধুনিক নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক ক্যামেরাগুলো পর্যবেক্ষণ করা হবে। ক্যামেরায় যুক্ত এআই প্রযুক্তি দুর্ঘটনা, যানজট, অগ্নিকাণ্ড, সন্দেহজনক চলাচল বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শনাক্ত করতে সক্ষম। কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণকক্ষে সংকেত পৌঁছাবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এই প্রযুক্তিগত সুবিধা ব্যবহার করতে পারবে।
জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগ ছিল। নিয়মিত অভিযান চালিয়েও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছিল না। তাই প্রযুক্তিনির্ভর স্থায়ী নজরদারিব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এতে অপরাধপ্রবণতা কমবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বাড়বে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে পুরো পৌর এলাকা এবং জেলার অন্যান্য পৌরসভায়ও এ ধরনের স্মার্ট নজরদারিব্যবস্থা চালু করা হবে।
নাগরিকদের মতে, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগ শরীয়তপুর শহরের নিরাপত্তাব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

