অপহরণ-অজ্ঞান পার্টির কবলে আলিম পরীক্ষার্থী, পরীক্ষা অনিশ্চিত

অপহরণ-অজ্ঞান পার্টির কবলে আলিম পরীক্ষার্থী, পরীক্ষা অনিশ্চিত

গাজীপুরের টঙ্গীতে তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী আব্দুর রহমান নাদিম (১৯) অপহরণ ও অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় তিনি বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চলমান আলিম পরীক্ষার তিনটি বিষয়ে অংশ নিতে পারেননি। বর্তমানে অসুস্থ থাকায় পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে তার পরিবার।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুলাই আসরের নামাজ শেষে মাদরাসা ক্যাম্পাস থেকে টঙ্গী বাজারে প্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য বাসা থেকে বের হন আলিম পরীক্ষার্থী আব্দুর রহমান নাদিম। সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

রাত প্রায় ২টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের একটি এলাকায় এক ব্যক্তি তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার কাছে থাকা শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র (স্টুডেন্ট আইডি কার্ড) থেকে অভিভাবকের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।

পরিবারের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা নাদিমকে অপহরণের পর মারধর করে তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়। ঘটনার পর তিনি দীর্ঘ সময় অচেতন ছিলেন এবং প্রায় দুই দিন পর তার জ্ঞান ফিরে আসে।

উদ্ধারের পর তাকে প্রথমে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েক দিন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি।

নাদিমের বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল নাঈম জানান, এ ঘটনার কারণে তার ভাই ১৫ জুলাই অনুষ্ঠিত আরবি দ্বিতীয় পত্র, ১৬ জুলাই হাদিস এবং ১৮ জুলাই ফিকহ প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। শারীরিক অবস্থার কারণে পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এতে তার শিক্ষাজীবন ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন