গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে নারী বন্দি রিম্পা (২১) পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। একই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তিন মেট্রন ও চার মহিলা কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি) জান্নাতুল ফরহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বন্দি পালানোর ঘটনা তদন্তে শুক্রবার কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার তথ্য পাওয়ায় সাতজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন— মেট্রন লায়লা আনজুমান সুমি, মেরিনা ও রেহেনা এবং মহিলা কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা।
কারা সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় কারাগারের ভেতরে প্রায় ৪০ জন নারী বন্দিকে দিয়ে ইট বহনের কাজ করানো হচ্ছিল। এ সময় সুযোগ বুঝে রিম্পা কারাগারের অফিস ভবনের পাশের দেয়ালের কার্নিশ বেয়ে সীমানা প্রাচীর টপকে পালিয়ে যান।
পলাতক রিম্পা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রায়পুর গ্রামের হাসানের মেয়ে। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি থানার একটি সিআর মামলায় তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। গত ৯ জুলাই আদালতের মাধ্যমে তাকে এ কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে তিনি ঢাকার কারওয়ান বাজার এলাকায় বসবাস করতেন।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দি পালানোর পরপরই পুরো কারাগারে তল্লাশি চালানো হয়। তবে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া যায়, রিম্পা কারাগারের সীমানা অতিক্রম করে পালিয়ে গেছেন।
এআইজি জান্নাতুল ফরহাদ বলেন, “ঘটনার পর কোনাবাড়ি থানায় মামলা করা হয়েছে। পলাতক বন্দিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। এত নিরাপত্তার মধ্যেও একজন বন্দি কীভাবে পালিয়ে গেল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর থেকে বন্দি রিম্পাকে আর কারাগারে পাওয়া যাচ্ছিল না। তদন্তকারী দল একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পেয়েছে। কোনাবাড়ি এলাকার এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন থেকে রিম্পা তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ওই সূত্র ধরে অভিযান চলছে।
কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়ম অনুযায়ী বিকেল ৫টার মধ্যে বন্দিদের লকআপ করার কথা থাকলেও ওই সময়ের মধ্যে লকআপ সম্পন্ন না হওয়ায় রিম্পা পালানোর সুযোগ পান।
এদিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কোনাবাড়ি থানা ওসি ইফতেখার হোসেন জানান, শুক্রবার কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের জেলার শিরীন আক্তার বাদী হয়ে বন্দি পালানোর ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পলাতক বন্দিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

