কিশোরগঞ্জ শহরের ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়। তীব্র গন্ধে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, নষ্ট হচ্ছে জমির ফসল। প্রায় ১৪ কোটি টাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প তিন বছর আগে শেষ হলেও এখনো চালু হয়নি সেটি। ফলে ভোগান্তিতে স্থানীয়রা।
স্থাপনের তিন বছরেও চালু হয়নি আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল ও পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার প্রকল্প। অযত্নে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে এর গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি। প্রকল্পের সামনে আঞ্চলিক মাহাসড়কের পাশে প্রতিনিয়ত ট্রাকে করে এনে ফেলা হচ্ছে পৌরসভার সব বর্জ্য। ইতোমধ্যে যা ছড়িয়ে গেছে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। এতে পরিবেশ দূষণের ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে পথচারী ও এলাকাবাসী। নষ্ট হচ্ছে আশপাশের ফসলি জমি ও পুকুর।
মূল ফটকে লেখা স্যানিটারি ল্যান্ডফিল ও পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার। ফটক খুলে ভেতরে ঢুকলে দেখা যায় বর্জ্য শোধনাগার নিজেই চাপা পড়েছে ময়লা-আবর্জনার নিচে। ২০২২ সালের শেষের দিকে এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক এডিবির অর্থায়নে এই প্রকল্প স্থাপন করে কিশোরগঞ্জ পৌরসভা। এখানে বসানো অত্যাধুনিক পাম্প ও ফিল্টার মেশিন দিয়ে বর্জ্য থেকে ময়লা পানি নিরাপদভাবে আলাদা করে বিশুদ্ধ করার সুবিধা রয়েছে। এছাড়া প্রক্রিয়াজাত শেষে ওই বর্জ্য রূপান্তরিত হওয়ার কথা ছিল জৈব সারে। স্থাপনের তিন বছরেও চালু না হওয়ায় অযত্নে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে এসব যন্ত্রপাতি। তবে থেমে নেই জায়গাটিতে বর্জ্য ফেলার কাজ। পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ ট্রাক বর্জ্য এনে ফেলা হচ্ছে মহাসড়কের পাশে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে পথচারী ও এলাকাবাসী।
বিষয়টি স্বীকার করে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক জেবুন নাহার শাম্মী জানান, দ্রুতই নেওয়া হবে কার্যকরি উদ্যোগ।
তিনি আরো বলেন, ‘এই প্রজেক্ট তিন বছর আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। এর কারণ যতটুকু জেনেছি, অপচনশীল ও পচনশীল দ্রব্য এটা আলাদা আলাদা করে ডাম্পিং করার কথা ছিল। কিন্তু কোনো একটা কারণে সেটা হয়নি, যার কারণে এই প্রক্রিয়াটাই টোটালি অকেজো হয়ে গেছে। আর এটা যদি সচল করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে এটা তৈরি করতে যতটুকু টাকা খরচ হয়েছে, তার সমপরিমাণ টাকা খরচ হবে। তবে আমরা চেষ্টা করছি কীভাবে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিষয়টা সমাধান করা যায়।’
এ সমস্যার দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের অবস্থা আরো ভয়াবহ হয়ে উঠবে বলে জানান বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট হামিদা বেগম।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

