ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় তিনটি স্যালো মেশিন চুরির পর রহস্যজনকভাবে মালিকদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে চোর পক্ষই সেই মেশিনের অবস্থান জানিয়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
জানা যায়, গত ৫ মে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের দাদপুর দক্ষিণপাড়া কালাম খাঁর মোড় এলাকা থেকে বাড়ি ও মাঠে রাখা তিনটি স্যালো মেশিন চুরি হয়। চুরি হওয়া মেশিনগুলোর মালিক একই গ্রামের কালাম খাঁ, দাউদ মোল্যা ও বক্কার মোল্যা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৫ মে) গভীর রাতে চুরি হওয়া মেশিনগুলো দাদপুর গ্রামের বড় খালের (দুয়া) পানির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে স্থানীয় এক মেশিন মেকানিক বক্কার মেশিনগুলোর সন্ধান দেওয়ার কথা বলে মালিকদের কাছে ১৩ হাজার টাকা দাবি করেন। দর-কষাকষির একপর্যায়ে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার পর তিনি জানান, মেশিনগুলো বড় খালের পানির নিচে রাখা আছে।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সোমবার গভীর রাতে স্থানীয়রা জাল ফেলে খালের পানির ভেতর থেকে তিনটি স্যালো মেশিন উদ্ধার করেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মেশিন মালিক দাউদ মোল্যার স্ত্রী জানান, পাটক্ষেতে সেচ দেওয়ার জন্য মাঠে তালাবদ্ধ অবস্থায় মেশিন বসানো ছিল। কিন্তু চোরচক্র কৌশলে মেশিনের পার্টস খুলে পুরো মেশিন নিয়ে যায়। শুধু তাদের নয়, একইভাবে আরও দুটি মেশিন চুরি করা হয়।
মেশিনের মালিক দাউদ মোল্যা অভিযোগ করে বলেন, চুরি হওয়া মেশিন পানির মধ্যে লুকিয়ে রেখে পরে টাকার বিনিময়ে খোঁজ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি খুবই রহস্যজনক। কারা জড়িত, তা তদন্ত হওয়া দরকার।
অভিযুক্ত বক্কারের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে চোরচক্রের সঙ্গে তথ্যদাতার কোনো যোগসূত্র আছে কি না। স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন, পুরো ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাই টাকা নিয়ে মেশিন উদ্ধারের নাটক সাজিয়েছে।
বোয়ালমারী থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, এ বিষয়ে এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

