অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর

অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ি এলাকায় ব্যবসায়ীকে অপহরণ, মারধর ও টাকা আদায়ের অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রত্যাহাররা হলেন কোনাবাড়ি থানার এএসআই আজিজুল হক, কনস্টেবল নাজমুল হোসেন ও মামুন হোসেন। এর মধ্যে আজিজুলকে গত মঙ্গলবার এবং নাজমুল ও মামুনকে বুধবার প্রত্যাহার করা হয়।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন লিখিত অভিযোগে জানান, গত সোমবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কে বাইমাইল এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক তুলে নেয়। তাকে বাইমাইল হরিণচালা এলাকার কাশেম কটনের পূর্বপাশে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

সেখানে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং তল্লাশির আগে চড় মারা হয়। একপর্যায়ে একটি পলিথিনে থাকা ইয়াবা ট্যাবলেট দেখিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয়। পরে তার কাছ থেকে নগদ ২৮ হাজার ৪০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

এ সময় সিএনজিতে থাকা সিফাত নামের আরেক যুবককেও আটক রাখা হয়। তার মোবাইলে অনলাইন জুয়ার অ্যাপ থাকার অভিযোগ তুলে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং তার কাছ থেকেও টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি তার ভাইয়ের মাধ্যমে দেলোয়ারের মোবাইলে দুই হাজার ৪০০ টাকা পাঠান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে দেলোয়ারের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে আরো প্রায় সাত হাজার টাকা উত্তোলন করে নেয় পুলিশ।

ভুক্তভোগীর দাবি, টাকা নেওয়ার পর অভিযুক্তরা তার ছবি তুলে রাখে এবং বিষয়টি কাউকে জানালে বড় ধরনের ক্ষতির হুমকি দেয়। পরে তাকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি নামিয়ে দেওয়ার সময় মাত্র ৪০০ টাকা ফেরত দেওয়া হয়। ঘটনার পর রাত আনুমানিক ২টার দিকে আটজন পুলিশ সদস্য তার বাসায় গিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে এবং জোরপূর্বক পাঁচ হাজার টাকা ফেরত দেয়।

পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে দেলোয়ার হোসেন সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আদায়কৃত অর্থ ফেরতের দাবি জানান।

অন্যদিকে ঘটনাস্থলে থাকা সিফাত মোবাইল ফোনে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও বিস্তারিত বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। তবে অভিযুক্ত এএসআই আজিজুল হক তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবু নাসের আল-আমিন জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন