নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে আজ। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় এ ঘটনায় কারাগার থেকে পালিয়ে যায় ৮২৬ জন বন্দ, যার মধ্যে সাতজন জঙ্গিও ছিল। হামলাকারীরা লুট করে ৮৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৮ হাজার ১৫ রাউন্ড গোলাবারুদ।
দুই বছর পরও ১৭০ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। একই সঙ্গে উদ্ধার হয়নি ২৬টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল সোয়া ৪টার দিকে হামলাকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে করতে কারাগারের প্রধান ফটক ও দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে পেট্রোলবোমা ছুড়ে কারাগারের বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয়। কারা কর্তৃপক্ষ প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। হামলায় কারা অফিস, রান্নাঘর, বন্দিদের আবাসন এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কনডেমড সেলসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার পর তৎকালীন জেলার কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন। একই সঙ্গে আইজি প্রিজনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের ছয় সদস্যের এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে জেলা প্রশাসনের তিন সদস্যের পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
পরে নরসিংদী কারাগারের তৎকালীন জেল সুপার আবুল কালাম আজাদ ও জেলার কামরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
স্থানীয়দের দাবি, গত এক বছরে নরসিংদীতে শতাধিক আলোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর বেশির ভাগই রাজনৈতিক আধিপত্য, চরাঞ্চলের বিরোধ, মাদক ব্যবসা ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে। বিশেষ করে রায়পুরাসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে টেঁটাযুদ্ধের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।
জেলা সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি হারুন অর রশিদ বলেন, জেলার মানুষের মধ্যে অবৈধ অস্ত্রের আতঙ্ক আগে থেকেই ছিল। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে কারাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্র। দ্রুত এসব অস্ত্র উদ্ধার করা জরুরি।
নরসিংদী স্কুল-কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মশিউর রহমান মৃধা বলেন, চরাঞ্চলে এখন আর শুধু টেঁটা নয়, আগ্নেয়াস্ত্রও ব্যবহৃত হচ্ছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ছাড়া স্থায়ীভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।
জেলা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনসুর আলী শিকদার বলেন, উদ্ধার না হওয়া অস্ত্রগুলো অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে। তাই প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের আরো আন্তরিক উদ্যোগ থাকলে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার সম্ভব।
চরাঞ্চলের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় সংঘাতে দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্রও ব্যবহার হচ্ছে। সমাজ ও জননিরাপত্তার স্বার্থে সব অবৈধ অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করা প্রয়োজন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. কলিমুল্লাহ বলেন, জেলা কারাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের বেশির ভাগ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো ২৬টি অস্ত্র উদ্ধার বাকি রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১৭০ জন পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, এখনো যেহেতু প্রায় ১৭০ জন পলাতক আসামি, ২৬টি অস্ত্র, তিন জঙ্গিসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার হয়নি, তাই এগুলো জননিরাপত্তার জন্য হুমকি। এসব উদ্ধারে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

