নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া, কুলিয়াদি, রঘুরামপুর, শিমুলিয়া, ব্রাহ্মণখালী এলাকার দুইশ পরিবার নতুন করে উচ্ছেদ আতঙ্কে রয়েছে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সদস্যদের আবাসিক এলাকা গড়ে তুলতে ৩৮ দশমিক ৭৬ একর জমি ভূমি হুকুম দখলকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে এ আতঙ্ক দিন দিন ছড়িয়ে পড়েছে।
পূর্বাচল উপশহর থেকে উচ্ছেদ হওয়া আদি বাসিন্দাসহ সহস্রাধিক মানুষ আবারও তাদের বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। কোনো ধরনের গণশুনানি বা জনমত যাচাই ছাড়াই অত্যন্ত গোপনে সার্ভে পরিচালনা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের উচ্ছেদ না করে অনাবাসিক, পতিত কিংবা খাস জমিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
১৯৯২-৯৩ অর্থবছরে রাজউকের পূর্বাচল উপশহর নির্মাণের জন্য নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ৪২ গ্রামের ১৭ মৌজার ছয় হাজার ১৫১ একর ভূমি হুকুম দখল করা হয়। পরে পূর্বাচলের আদি বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে সেখানে উন্নয়নকাজ চলে। একপর্যায়ে পূর্বাচলের আদি বাসিন্দারা ফুলবাড়িয়া, কুলিয়াদি, শিমুলিয়া, ব্রাহ্মণখালীসহ আশপাশের এলাকায় জমি ক্রয় করে বাড়িঘর নির্মাণের পর বসবাস করতে শুরু করে।
বর্তমানে নতুন করে পূর্বাচলের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী ফুলবাড়িয়া, কুলিয়াদি, শিমুলিয়া, রঘুরামপুর ও ব্রাহ্মণখালী এলাকায় আবারও ভূমি হুকুম দখল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রঘুরামপুর মৌজার ১৯ দশমিক ২১ একর, ব্রাহ্মণখালী মৌজার ১৫ দশমিক ৮৫ একর এবং কুলিয়াদি মৌজার তিন দশমিক ৭০ একর জমি প্রস্তাবিত প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার নাজমুল হাসান জানান, নির্বাচন কমিশনের তালিকা মোতাবেক ফুলবাড়িয়া, কুলিয়াদি, রঘুরামপুর, শিমুলিয়া, ব্রাহ্মণখালী এলাকায় ভোটার সংখ্যা ষোলো শতাধিক।
কুলিয়াদি গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন, ফসলি জমিগুলো শুধু জীবিকার উৎস নয়, প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকার একমাত্র অবলম্বন। নামমাত্র দামে জমি অধিগ্রহণের সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে প্রান্তিক মানুষ সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়বে। রক্ত দিব, তবুও আমাদের বাপ-দাদার বসতভিটা ছাড়ব না।পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফরিদ আল-সোহান বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সদস্যদের আবাসিক এলাকা গড়ে তুলতে ৩৮ দশমিক ৭৬ একর জমি ভূমি হুকুম দখল করার কাজ চলছে। এ বিষয়ে এক মাস আগেই তথ্য যাচাই-বাছাই করে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পে ভূমি হুকুম দখল করা হলে ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য পাওনা অবশ্যই পরিশোধ করা হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, ভূমি হুকুম দখল বিষয়ে আইন রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের আবেদন-নিবেদন থাকলেও তা ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে উত্থাপন করা হবে।
রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম বলেন, সরকারি আইন অনুযায়ী ভূমি হুকুম দখলের জমি ও ক্ষতিপূরণের বিল অবশ্যই পরিশোধ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের কেউ বঞ্চিত হবে না।
তারা তাদের ন্যায্য অধিকার পাবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

