মাদক ও অর্থ পাচার এবং বেআইনি কর্মকাণ্ডের দায়ে অপরাধী চক্রের সদস্যদের ১ হাজার বছরেরও বেশি মেয়াদের কারাদণ্ড দিয়েছেন এল সালভাদরের একটি আদালত।
দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় গতকাল বুধবার এই রায় দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় প্রসিকিউটররা জানান, ‘এল গ্রেমিয়া’ নামের অপরাধী চক্রের ২৮ সদস্যকে মাদক ও অর্থ পাচার এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অপরাধে দণ্ডিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে ১ হাজার ৪৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।
দেশটির ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলে ২০২২ সাল থেকে অপরাধী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেন। এই কঠোর অভিযানের আওতায় এ পর্যন্ত ৯০ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের অনেকেরই ঠাঁই হয়েছে দেশটির কুখ্যাত সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগারগুলোতে।
নিয়ন্ত্রণ জোরদারের অংশ হিসেবে গত মার্চে বেকেলে নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস একটি সাংবিধানিক সংস্কার অনুমোদন করে। নতুন বিধানে আগের সর্বোচ্চ ৬০ বছরের কারাদণ্ডের নিয়ম তুলে দিয়ে খুন, ধর্ষণ ও সন্ত্রাসবাদের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান কার্যকর করা হয়। পরবর্তীতে ১৮ বছরের কম বয়সি অপরাধীদের ক্ষেত্রেও এই সর্বোচ্চ শাস্তির নিয়ম সম্প্রসারণ করা হয়।
নাইব বুকেলের একচ্ছত্র ক্ষমতার শাসনে এল সালভাদরে বিচার বিভাগের কোনো স্বাধীনতা অবশিষ্ট নেই বলে অভিযোগ তুলে আসছে অলাভজনক মানবাধিকার সংস্থাগুলো (এনজিও)।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, বুকেলে সরকার নিরপরাধ মানুষদের জোরপূর্বক কারারুদ্ধ করে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের এই কঠোর দমনপীড়নের মুখে পড়ে শত শত মানুষ কারা হেফাজতে মারা গেছেন। একই সঙ্গে হাজার হাজার মানুষকে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়েছে।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

