গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে হাসপাতালে ঢুকে রাসেল বিশ্বাস (২৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত রাসেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
আহত রাসেল বিশ্বাস উপজেলার বর্ষাপাড়া গ্রামের জামাল বিশ্বাসের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ষাপাড়া গ্রামের জামাল বিশ্বাসের সঙ্গে তার আপন ভাই পান্না বিশ্বাসের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় রাসেল বিশ্বাস প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হন।
পরিবারের লোকজন জানায়, প্রতিপক্ষের ভয়ে রাতে রাসেলকে হাসপাতালে ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। পরে শুক্রবার সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইব্রাহিম ফকিরের নেতৃত্বে গ্রামবাসীর সিদ্ধান্তে ও ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে তাকে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় পান্না বিশ্বাসের পক্ষের বাবু বিশ্বাস, মানিক বিশ্বাস, অনিক বিশ্বাস, শাওন বিশ্বাস ও হাফিজুর বিশ্বাসসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র ও ধারালো দা নিয়ে হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে রাসেলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী পারভেজ বিশ্বাস জানান, মানিক বিশ্বাস রাসেলকে ধরে রাখে এবং শাওন, হাফিজুল ও অনিকসহ কয়েকজন আমার সামনেই লোহার দা দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে।
রাসেলের ভাই রবিউল বিশ্বাস বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে আমার ভাইকে মারধর করা হয়। আজ হাসপাতালে ভর্তি করার পরও তারা ছাড়েনি, কুড়াল-দা নিয়ে এসে সবার সামনে কুপিয়ে যায়। আমরা এখন তার জীবন নিয়ে শঙ্কিত।
কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মৃদুল দাস জানান, সকালে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর ওপর হাসপাতালে ঢুকে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত পান্না বিশ্বাস ও তার সহযোগীরা পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি এবং মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।
কোটালীপাড়া থানার ওসি রিয়াদ মাহমুদ জানান, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

