পাট ও পেঁয়াজের গুদামে লাগা এক ভয়াবহ আগুনে মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেছে কোটি কোটি টাকার পণ্য। ধারদেনা ও জমি বিক্রি করে ব্যবসার জন্য এসব গুদামে পাট, পেঁয়াজ, রসুন, চালসহ বিভিন্ন মালামাল মজুত করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু মুহূর্তের আগুনে সবকিছু হারিয়ে তাঁরা এখন দিশেহারা। আগুনে মোট ৯টি গুদাম পুড়ে গেছে। ক্ষতি হয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকার ।
শনিবার রাত আটটার দিকে জেলার বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার সীমান্তবর্তী বুড়াইচ ইউনিয়নের ফলিয়া বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফলিয়া বাজারের পাট ও পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মাসুদ মণ্ডলের গুদাম থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই সেই আগুন আশপাশের দোকান ও গুদামে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পাট ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্যে ভর্তি আরও আটটি গুদাম পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনের তীব্রতায় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের পুঁজি ও স্বপ্ন নিমিষেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত গুদামমালিকেরা হলেন—হাবিবুর রহমান হাবি মণ্ডল, ফিরোজ মেম্বার, মাসুদ মণ্ডল, মিল্টন মোল্যা, জুয়েল মণ্ডল, ইমরুল মোল্যা ও কালাম মোল্যা। তাঁদের গুদামগুলোয় পাট, পেঁয়াজ, রসুন ও চালের মতো বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য মজুত ছিল। স্থানীয়দের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি গুদামে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার পণ্য ছিল।
খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী উপজেলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান। প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এর আগেই গুদামগুলোর অধিকাংশ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. কিসলু খালাসী বলেন, ‘আমি তখন ফোনে কথা বলছিলাম। হঠাৎ বাজারের লোকজনের ছোটাছুটি ও চিৎকার শুনতে পেয়ে দোকান থেকে বের হয়ে দেখি, মাসুদ মণ্ডলের পাটের গুদাম থেকে আগুন ও ধোঁয়া বের হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিই। কিন্তু তারা আসার আগেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং আটটি গুদামের সব মালামাল পুড়ে শেষ হয়ে যায়।’
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ফিরোজ মেম্বার বলেন, ‘গুদামঘর বন্ধ করে বাড়িতে গিয়েছিলাম। আগুনের খবর শুনে এসে দেখি আমার সব শেষ! ধারদেনা করে পাটের ব্যবসা করি, এখন সেই ব্যবসাটুকুও আর রইল না। সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা না পেলে আমাদের পথে বসতে হবে।’
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মাসুদ মণ্ডল বলেন, ‘আমার গুদামে থাকা পাট, পেঁয়াজ ও রসুন পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। জমিজমা বিক্রি ও ধারদেনা করে পণ্য কিনে গুদামে রেখেছিলাম। প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। এখন কীভাবে এই ক্ষতি সামাল দেব, বুঝতে পারছি না।’
বোয়ালমারী উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার রয়েল আহমেদ জানান, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যাবে।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা ফায়ার স্টেশনের স্টেশন মাস্টার ওবায়েদুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। পাটের গুদামে আগুন লাগলে তা সাধারণত ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। তবে পাশেই বারাসিয়া নদী থাকায় সেখান থেকে সহজেই পানি সংগ্রহ করে আগুন নেভানো সহজ হয়েছে। প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক সোহেল রানা বলেন, ‘খবর পেয়ে বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা থেকে ৪টি ইউনিট এসে আগুন নেভায়। আগুনে প্রায় ৯টি গুদাম পুড়ে পাট, পেঁয়াজ ও চালসহ নানা রকমের মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তসাপেক্ষে ক ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করা যাবে।’
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

