সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী আরাফাত আমিন তমালের পায়ে গুলি করা সেই প্রভাষক ডাক্তার রায়হান শরীফকে অস্ত্র আইনের দুটি ধারায় ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
আজ সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের বিশেষ ট্রাইব্যাল-১ এর বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ ইকবাল হোসেন এ রায় দেন।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি রফিক সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, অস্ত্র আইনের দুটি ধারায় ডাক্তার রায়হান শরীফকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিচারকালীন হাজতবাস পদত্ত দণ্ডাদেশের মেয়াদ হতে বাদ যাবে।
দন্ডপ্রাপ্ত ডাক্তার রায়হান শরীফ সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
মামলার অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৪ মার্চ সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের একাডেমি ভবনের ৪র্থ তলায় পরীক্ষা চলাকালে ছাত্রছাত্রীদের ভয়ভীতি দেখানোর জন্য আগ্নেয়াস্ত্র ও ছোরা নিয়ে পরীক্ষা নিচ্ছিলেন ডাক্তার রায়হান শরীফ । একপর্যায়ে তার হাতে থাকা ব্যাগ থেকে একটি পিস্তল বের করে শিক্ষার্থী আরাফাত আমিন তমাল (২২)কে গুলি করেন। গুলিটি তমালের ডান পায়ে লেগে গুরুতর আহত হয়।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা ডাক্তার রায়হান শরীফকে ক্লাস রুমে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুটি বিদেশি পিস্তল, গুলি, ম্যাগাজিন, বিদেশি ছোরা ও চাকু উদ্ধার করে। পরে ডাক্তার রায়হান শরীফকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তার শাস্তির দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা।
এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জ সদর থানার এসআই ওয়াদুদ আলী বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার স্বাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আজ আদালত ডাক্তার রায়হান শরীফকে অস্ত্র আইনের দুটি ধারায় ২১ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

