কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাজারের ওরসে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুইদল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে অর্ধশত লোক আহত হয়েছেন। এ সময় ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের কালিকাপ্রসাদ গ্রামের খানবাড়ি ও তারাচাঁন মিয়ার বাড়ির লোকজনের মাঝে এই সংঘর্ষ হয়।
খবর পেয়ে প্রথমে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে র্যাব ও সেনাবাহিনী গিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষ থামার পর আহতদের উদ্ধার করে ভৈরব ও কুলিয়ারচরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করে। এরমধ্যে গুরুতর আহত মেহেদি হাসান, রায়হান খান ও আনাস মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, স্থানীয় একটি মাজারের বার্ষিক ওরসকে কেন্দ্র করে নিজেদের প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এলাকার খানবাড়ি ও তারাচাঁন মিয়ার বাড়ির লোকজনের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। এরই মধ্যে তারাচাঁন মিয়ার বাড়ির এক যুবককে খানবাড়ির যুবকরা মারধর করে গতকাল মঙ্গলবার।
খানবাড়ির মুরুব্বিদের কাছে এই ঘটনার বিচার দিয়ে তারাচাঁন মিয়ার বাড়ির লোকজন ফেরার পথে তাদের উপর আবার হামলা করে খানবাড়ির কিছু যুবক।
এর জের ধরে রাত ৮টার দিকে দুই বংশের লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। ৪ ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে অর্ধশত লোক আহত হন। ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি বাড়ি-ঘরে।
ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু তালেব জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পরবর্তী যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

