প্রিন্সিপাল মাওলানা নূরুল হুদার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রিন্সিপাল মাওলানা নূরুল হুদার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
মাওলানা মো. নূরুল হুদা

বরেণ্য শিক্ষাবিদ, বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও শিক্ষকনেতা প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. নূরুল হুদার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৩ সালের এই দিনে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

বিজ্ঞাপন

চার দশকের বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালনসহ অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় তিনি শিক্ষকতা পেশায় নিবেদিত ছিলেন। মাওলানা নূরুল হুদা কওমি ও আলিয়া শিক্ষাব্যবস্থার সর্বোচ্চ ডিগ্রি (দাওরায়ে হাদিস ও কামিল) অর্জনকারী একজন বিরল ব্যক্তিত্ব ছিলেন। কোরআন, হাদিস, ফিকহ ও আরবি সাহিত্যে তার গভীর পাণ্ডিত্য ছিল। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি বহু হক্কানি আলেমে দ্বীন তৈরি করেছেন।

মৃত্যুকালে তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পুবাইলে হারবাইদ দারুল উলুম ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার প্রিন্সিপাল ছিলেন।

শিক্ষার প্রসারে প্রিন্সিপাল নূরুল হুদা অনন্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি গাজীপুরের টঙ্গীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-হেলাল স্কুল ও আল-হেলাল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা এবং পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া তিনি সোনাগাজীর আমিরাবাদ ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল, মানিকদি সিনিয়র মাদরাসার প্রিন্সিপাল এবং সোনাগাজী ফাজিল মাদরাসা ও ভাদাদিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা করেছেন।

আমৃত্যু তিনি তা’মিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন।

তিনি একাধারে দেশবরেণ্য ওয়ায়েজ, একাধিক মসজিদের খতিব এবং সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘নূরাইন ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।

জমিয়াতুল মোদাররেছীন ও মাদরাসা শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি শিক্ষকদের অধিকার আদায়ে এবং দেশে ইসলামবিরোধী তৎপরতার বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। লেখালেখির পাশাপাশি তিনি জনপ্রিয় সাপ্তাহিক ‘সংবাদদাতা’ পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ছিলেন।

পারিবারিক জীবনে তিনি চার ছেলে ও সাত কন্যাসন্তানের জনক। তার জ্যেষ্ঠ পুত্র এম আবদুল্লাহ বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি ও আমার দেশের যুগ্ম সম্পাদক, মেজো ছেলে এম এনায়েত উল্লাহ কমফোর্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সেজো ছেলে মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) গাজীপুর জেলা সংবাদদাতা, সাংবাদিক ইউনিয়ন গাজীপুরের (জেইউজি) সাধারণ সম্পাদক ও আল-হেলাল স্কুলের প্রিন্সিপাল এবং কনিষ্ঠ ছেলে অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী।

মরহুমের সহধর্মিণী ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল ইন্তেকাল করেন।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় দেশবাসীর কাছে বিশেষ দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন