বড় ভাইয়ের বিয়ে। রাতে গায়ে হলুদ শেষে সকালে ফুরফুরে মেজাজে ফুফাতো ভাইকে নিয়ে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন সজীব । কিন্তু কে জানত, এটাই তার জীবনের শেষ আনন্দ।
বিপরীত দিক থেকে ছেড়ে আসা ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী আসিফুল্লাহ সজীব (২০) ও তার পেছনে থাকা ফুফাতো ভাই রাসেল গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য সজীবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখান থেকে তাকে ঢাকা নেওয়ার পথে সে মারা যায়।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে বুধবার সকালে উপজেলার পাকুন্দিয়া-কিশোরগঞ্জ সড়কের কোষাকান্দা এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। এতে আসিফুল্লাহ সজীবের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন সজীবের ফুফাতো ভাই উপজেলার চরটেকী গ্রামের লালু মিয়ার ছেলে রিয়াদ।
আগরপাট্টা গ্রামের বাসিন্দা ও পাকুন্দিয়া পৌরসদর বাজারের শামীম আর্টের মালিক শামীম মিয়া জানান, নিহত আসিফুল্লাহ সজীব আগরপাট্টা গ্রামের রুহুল আমীনের ছেলে। সে ঢাকার লালবাগ মডেল কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তাদের পুরো পরিবারই ঢাকায় থাকে। সেখানে তাদের ব্যবসা রয়েছে।
বুধবার সজীবের বড় ভাই রাজিবের বিয়ের দিন ঠিক করা ছিল। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার রাতে বাড়িতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হয়। বড় ভাইয়ের গায়ে হলুদে অনেক আনন্দ করে ছোট ভাই সজীব। কিন্তু সকালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তার সেই আনন্দ নিমিষেই শেষ হয়ে যায়।
তার মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কাঁদছে পরিবার, কাঁদছে বন্ধু-বান্ধবেরা।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

