মাদকবিরোধী সভায় ছাত্র হত্যা মামলার আসামি, এলাকায় তীব্র ক্ষোভ

মাদকবিরোধী সভায় ছাত্র হত্যা মামলার আসামি, এলাকায় তীব্র ক্ষোভ
পুলিশের পাশে বসে সভার আলোচনায় অংশ নেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আজাহার হাওলাদার।

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় বিট পুলিশিংয়ের একটি মাদকবিরোধী মতবিনিময় সভায় ছাত্র হত্যা মামলার এক আসামির উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতি ও জনমনে চরম ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের ঠিক পাশেই বসে সভার আলোচনায় অংশ নেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আজাহার হাওলাদার, যিনি ওই হত্যা মামলায় সাজাভোগকারী এবং সম্প্রতি ঘটা একটি গাড়ি পোড়ানো মামলারও আসামি।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে কুতুবপুর বাজারে শিবচর থানা পুলিশ এ বিট পুলিশিং সভার আয়োজন করে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিবচর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাকিবুল হাসান এবং বিট অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিয়াজুর রহমান। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি এ সভায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আজাহার হাওলাদার এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সামাদ মাদবর সামুসহ কয়েকজন নেতাকর্মী কেবল উপস্থিতই ছিলেন না, বরং সরাসরি পুলিশের সঙ্গে বসে মতবিনিময়েও অংশ নেন।

ঘটনাটির তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা। কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বাকাউল বিল্লাহ বকুল জমাদ্দার বলেন, "পুলিশের এই মতবিনিময় সভার বিষয়ে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। পরে শুনতে পাই, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের মধ্যে ছাত্র হত্যা মামলার আসামিও ছিলেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।"

অনুরূপ ক্ষোভ প্রকাশ করে কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি আজিজুল মোড়ল প্রশ্ন তোলেন, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা রয়েছে এবং যাদের কারাগারে থাকার কথা, তারা কীভাবে প্রকাশ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে এক মঞ্চে বসে সভা করেন? এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিষয়টিতে নিজেদের অনভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে কুতুবপুর বিট অফিসার ও এসআই রিয়াজুর রহমান জানান, আমরা বিট পুলিশিং সভা করেছি ঠিকই, তবে আমরা এলাকায় নতুন দায়িত্বে এসেছি। সভায় উপস্থিত সবাইকে আমাদের চেনার সুযোগ হয়নি।

এ বিষয়ে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, "মতবিনিময় সভায় ছাত্র হত্যা মামলার কোনো আসামির উপস্থিতি সত্যিই অত্যন্ত দুঃখজনক। পরিদর্শক (তদন্ত) রাকিবুল হাসান ও বিট অফিসার রিয়াজুর রহমান—দুজনই থানায় একদম নতুন এসেছেন। তবে বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।"

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সরকারি ও দায়িত্বশীল সভায় কীভাবে একজন তালিকাভুক্ত আসামি উপস্থিত থেকে প্রতিনিধিত্ব করলেন, তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা ও নজরদারি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় নেতাদের দাবি, পুরো ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন