আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন-সংকটে ভোগান্তি

টিপু সুলতান, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)

জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন-সংকটে ভোগান্তি
ছবি: আমার দেশ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন-সংকটে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে রোগীরা। জানা গেছে, কুকুরে কামড়ানো ভ্যাকসিন কেনার সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত দুই মাস আগে সরকারি বরাদ্দের প্রাপ্ত দুই লাখ টাকা কুকুরে কামড়ানো ভ্যাকসিন না কিনে টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে।

ফলে এ টাকা নিয়ে চলছে নানান জল্পনা। এদিকে প্রায় চার মাস কালীগঞ্জ হাসপাতালে ভ্যাকসিন নেই। অতি গুরুত্বপূর্ণ জীবনরক্ষাকারী এ ভ্যাকসিন না পেয়ে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে ভুক্তভোগীরা। বিশেষত অতি প্রয়োজনীয় জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক ভ্যাকসিনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। বিশেষ করে কুকুর-বিড়ালে কামড়ানো রোগী হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন না পেয়ে তারা বাজার থেকে ছয়-সাত টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কিনে নিয়ে রোগীর সেবা দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় চার মাস ধরেই হাসপাতালটিতে কুকুরে কামড়ানো ভ্যাকসিন নেই। এটি ক্রয়ের জন্য গত দুই মাস আগে উপজেলা পরিষদের এডিবির ২ লাখ টাকা বরাদ্দ পায়। সেখান থেকে ভ্যাট ও খরচ বাদে ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকার একটি চেক বরাদ্দ হয়। কিন্তু অদ্যাবধি এ টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কেনা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, একটি অসাধু চক্র ভ্যাকসিন কেনার এ অর্থ লোপাট করতে পারে। যে কারণে ভ্যাকসিন-সংকটে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে ।

কুকুরে কামড়ানো জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন নিতে হাসপাতালে আসা শহরের পৌর এলাকার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মাটিকাটা শ্রমিকের স্ত্রী রোমেচা বলেন, তার বয়স্ক শাশুড়িকে কুকুরে কামড়ানোর পর একাধিকবার হাসপাতালে গিয়েও ভ্যাকসিন পায়নি। পরে জীবন বাঁচানোর তাগিদে বাজার থেকে বেশি দাম দিয়ে ভ্যাকসিন কিনতে বাধ্য হয়েছেন। আরিফ মোল্লার মেয়ের জন্য কয়েকবার হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন মেলেনি। আড়পাড়া গ্রামের উম্মে আসমা বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে আসেন। এভাবে প্রতিনিয়িত উপজেলার একাধিক রোগী ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. অরুন কুমার জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন-সংকটের কথা স্বীকার করে জানান, ‘আমি এক সপ্তাহ হলো নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। আগের স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দায়িত্বকালে উপজেলা থেকে ভ্যাকসিন কেনার জন্য টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন। তবে, ভ্যাকসিন কেনা না হলেও এই টাকা গচ্ছিত আছে। ভ্যাকসিনের দাম বেশি হওয়ায় কেনা হয়নি ।’

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, প্রায় দুই মাস আগে হাসপাতালে ভ্যাকসিন কেনার জন্য ২ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো কেনা হয়নি, এটি তার জানা নেই। আর এ টাকা কী করা হয়েছে বা কেন কেনা হয়নি, বিষয়টি পরে জানাবেন বলে জানান তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন