চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমারী গ্রামে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন তাসলিমা (৩৩) নামে এক সন্তানের জননী। দাবি পূরণ না হলে আত্মহত্যার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
এঘটনার পর প্রেমিক আব্দুল্লাহ (৩০) ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার কুমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আব্দুল্লাহ ওই গ্রামের কাজল মহুরির ছেলে। অনশনরত তাসলিমা একই উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের পারকুলা গ্রামের আব্দুল আলমের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাসলিমার পূর্বের স্বামীর বাড়ি কামালপুর এলাকায় হওয়ায় আব্দুল্লাহর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও তাদের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, তারা আলমডাঙ্গার থানাপাড়া, চুয়াডাঙ্গার বাগানপাড়া এবং মিরপুর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে দীর্ঘদিন বসবাস করেন। প্রায় এক বছর আগে এই সম্পর্কের জের ধরে তাসলিমার পূর্বের সংসার ভেঙে যায়।
তাসলিমার অভিযোগ, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আব্দুল্লাহ তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বিভিন্ন অজুহাতে জমি ও গবাদিপশু বিক্রির প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। আব্দুল্লাহর প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করেই তিনি আগের স্বামীকে তালাক দেন। তবে সম্প্রতি আব্দুল্লাহ তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান। পরে বাধ্য হয়ে তার বাড়িতে অনশন করছেন তিনি।
তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আমার জীবন নষ্ট করেছে। তার কথায় আমি আগের সংসার ছেড়েছি। এখন সে আমাকে গ্রহণ না করলে আমার বেঁচে থাকার কোনো অর্থ নেই। এসময় আব্দুল্লাহর স্বজনরা তাকে মারধর করে।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ বাণী ইসরাইল জানায়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ বিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ না পওয়ায় ব্যবস্থা নিতে পারিনি। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে আব্দুল্লাহ ও তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

