সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ড সভায় সাংবাদিকদের জন্য ‘হেলথ কার্ড’ চালুর নীতিগত অনুমোদন মিলেছে বলে জানিয়েছেন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম আবদুল্লাহ। রোববার সকালে খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চলের সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণকালে এ কথা জানান তিনি।
খুলনা প্রেস ক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সহযোগিতায় ও মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।
এম আবদুল্লাহ বলেন, সাংবাদিকদের বড় সমস্যা হলো চিকিৎসা ব্যয়। এ অবস্থার পরিবর্তনে একটি স্থায়ী স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের একটি পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজ তৈরি করা হবে। এরপর নিবন্ধনের ভিত্তিতে হেলথ কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ডের আওতায় ট্রাস্টের পক্ষ থেকে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে ঢাকায় কার্যক্রম শুরু করে পরে বিভাগীয় ও জেলা শহর পর্যন্ত বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। যার কল্যাণে আমরা সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতে পারছি। এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করে গেছেন প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করছেন। মিডিয়া তার সমালোচনা বা ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশ করলেও তিনি সহনশীল থেকেছেন।
সাংবাদিকদের দলীয় লেজুড়বৃত্তি না করে প্রকৃত সাংবাদিকতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মান উন্নয়নে ফেলোশিপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাস্টের। সে জন্য ইতোমধ্যে ডেটাবেজ তৈরির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সাংবাদিকদের জন্য পেনশন চালুর বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন।
এম আবদুল্লাহ বলেন, মাস শেষে অধিকাংশ সাংবাদিকের হাতেই বেতনের টাকা আসে না। কিন্তু মাস শেষ হলে নতুন মাসে স্কুল, মাদরাসা ও কলেজের টিউশন ফি কিন্তু ঠিকই দিতে হয়। এই যে একটি চ্যালেঞ্জ, এই জায়গাতে সাংবাদিকরা নিয়মিতই নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়। এ বিষয়টি মাথায় নিয়ে সাংবাদিকদের মেধাবী সন্তানদের বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানার পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলার সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান আরিফ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন এবং খুলনা প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ইউনিয়নের সহসভাপতি মো. নূরুজ্জামান, সহ-সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম নূর, কোষাধ্যক্ষ মো. রকিবুল ইসলাম মতি, নির্বাহী সদস্য মো. এরশাদ আলী, কেএম জিয়াউস সাদাত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এইচএম আলাউদ্দিন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান হিমালয়, সিনিয়র সদস্য মুনীর উদ্দিন আহমেদ, আহমদ মুসা রঞ্জু, স ম গোলাম মোস্তফা, মো. হাফিজুর রহমান শিমুল প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

