ভেঙে পড়া সেতু মেরামতের উদ্যোগ নেই, ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকোয় পারাপার

টিপু সুলতান, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)

ভেঙে পড়া সেতু মেরামতের উদ্যোগ নেই, ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকোয় পারাপার
ঝিনাইদহের মহারাজপুর ও কুমড়োবাড়িয়া সড়কের ভাঙা সেতু। আমার দেশ

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার জিকে সেচ খালের ওপর সেতু পানির স্রোতে ভেঙে যাওয়ায়, যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে বাঁশের মাচাল দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন ৩৭ গ্রামের মানুষ। দীর্ঘ ৯ মাসেও সেতু মেরামতের উদ্যোগ নেই।

জানা গেছে, ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসন ও সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়ন ও কুমড়োবাড়িয়া ইউনিয়নের বিষয়খালী জিসিনগর বাথান জিসি ভায়া ডেফলবাড়ী সড়কের ভবানীপুর-ডেফলবাড়ী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের খালের ওপর নির্মিত সেতু ২০২৫ সালের জুন মাসে প্রবল বর্ষণে পানির তোড়ে ভেঙে গেছে। এ সেতু দিয়ে চলাচলকারী জানান, প্রায় ৪৫ বছর আগের নির্মিত সেতু গত পাঁচ বছর ধরে নড়বড়ে ছিল। অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইটভাটার মাটি বহনকারী ট্রাক চলাচল করায় সেতু ভেঙে পড়েছে। এতে ওই সেতু দিয়ে সব প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ৩৭ গ্রামের প্রায় অর্ধলাখ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ফলে গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় সেতু ভেঙে যাওয়া অংশে বাঁশের মাচাল বিছিয়ে সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে

বিজ্ঞাপন

চলাচল করছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। যেকোনো মুহূর্তে মানুষের মৃত্যুসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে । ফলে সদর উপজেলার দুটি ও কালীগঞ্জ উপজেলার হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। এতে বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও কৃষিপণ্য পরিবহনকারী ব্যক্তিরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ও মহারাজপুর ইউনিয়নের সংযোগকারী একমাত্র রাস্তা বিষয়খালী জিসিনগর বাথান জিসি ভায়া ডেফলবাড়ী সড়ক। প্রায় ৪৫ বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) সড়কের ভবানীপুর-ডেফলবাড়ী এলাকায় গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের খালের ওপর সেতু নির্মাণ করেছিল। ২০২৫ সালের জুন মাসে প্রবল বৃষ্টির সময় পানির তোড়ে সেতু ভেঙে পড়ে। দীর্ঘ ৯ মাস পার হলেও সেতু পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের উদ্যোগে, সেখানে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। তবে সেই সাঁকোটিও এখন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ফলে অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এ সেতু দিয়ে ঝিনাইদহ, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, চুয়াডাঙ্গা জেলায় যাতায়াতের প্রধান সড়ক। স্থানীয় বাসিন্দা মকলেচুর রহমান, জাব্বারুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৯ মাস আগে সেতু ভেঙে গেছে। আমরা বিভিন্ন দপ্তরে জানিয়েছি । কিন্তু এখনো কোনো সমাধান পাইনি।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, সড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এখানে দুটি সেতু ছিল, যার মধ্যে একটি ইতোমধ্যে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। ভেঙে পড়া সেতু পুনর্নির্মাণের জন্য পৃথক দুটি প্রকল্প প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত অনুমোদন পাওয়া গেলে নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...