চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বাঁশবোঝাই এক স্থানীয় যান ‘আলমসাধু’র ধাক্কায় গুরুতর আহত মৌসুমি ব্যবসায়ী কার্তিক আলী (৬৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গত সোমবার বিকেলে উপজেলার রোয়াকুলি রেলগেট এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৩টার দিকে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহত কার্তিক আলী আলমডাঙ্গা পশুহাট এলাকার ফজলুর রহমানের ছেলে। তার পৈতৃক বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মালিহদ গ্রামে হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আলমডাঙ্গায় বসবাস করছিলেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে কার্তিক আলী মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে রোয়াকুলি রেলগেট এলাকায় যান। রেলগেট পার হওয়ার সময় তার সামনে একটি বাঁশবোঝাই আলমসাধু ছিল। পারাপারের সময় আলমসাধুটি সামনে এগোতে না পেরে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পেছনের দিকে চলে আসে। এ সময় গাড়িটিতে থাকা বাঁশের একটি অংশ কার্তিক আলীর পেটে এবং আরেকটি অংশ পায়ে ঢুকে যায়। এতে তার পেটে গুরুতর জখম হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাকে উদ্ধার করেন। তাৎক্ষণিকভাবে কাপড় দিয়ে তার পেট ও পা বেঁধে প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাতে তার শরীরে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। রাত ৩টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ব্যবসায়ী কার্তিক আলীর এই আকস্মিক ও নৃশংস মৃত্যুর সংবাদে আলমডাঙ্গা ও তার গ্রামের বাড়ি মিরপুরের মালিহদ এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ছেলে ইমন ও মেয়ে জেসমিনসহ বহু আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন।
আলমডাঙ্গার থানার অফিসার ইনচার্জ রাকিবুল ইসলাম তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

