দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি আনতে আগামীকাল সোমবার যশোর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম যশোর সফর, যেখানে উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং বড় রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে।
সরকারি সূচি অনুযায়ী, সকাল সোয়া ১০টায় প্রধানমন্ত্রী যশোর বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সেখান থেকে সরাসরি শার্শা উপজেলার উলাশীতে গিয়ে উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কাজ উদ্বোধন করবেন। পরে সেখানে সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন।
এরপর সড়কপথে যশোর শহরে এসে দুপুর সোয়া ১টায় শহরতলির বিলহরিণা এলাকায় যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। পরে তিনি ঐতিহ্যবাহী যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করবেন। দুপুরে সার্কিট হাউসে নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজ শেষে বেলা সাড়ে ৩টায় কেন্দ্রীয় ঈদগাহে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভা শেষে তিনি যশোর ক্লাব পরিদর্শন করবেন এবং স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর প্রস্তুতি নেয়। নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করছে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)। কর্মসূচিস্থলগুলোয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি দেখা গেছে, উলাশীতে মোতায়েন করা হয়েছে র্যাবের ডগ স্কোয়াড। গতকাল দুপুরে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ বিএনপি নেতারা জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন।
উল্লেখ্য, উলাশী-যদুনাথপুর খালটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার আলোচিত খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন এই খাল থেকেই। দীর্ঘদিন অবহেলায় ভরাট হয়ে যাওয়া খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এই দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জি আমার দেশকে জানান, উলাশীতে খাল পুনঃখননস্থল কাজ উদ্বোধনের যাবতীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজের দায়িত্বে রয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। এই দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, যাবতীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী যশোর সফরকালে আরো যে দুটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন, সে দুটি ঐতিহ্যবাহী। এর একটি হলো যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি। ১৮৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত এ পাঠাগার উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ পাবলিক লাইব্রেরি। তালপাতার পাণ্ডুলিপিসহ আরবি, ফার্সি, উর্দু ভাষার প্রাচীন গ্রন্থ ছাড়াও লক্ষাধিক বাংলা ও ইংরেজি বইয়ে সমৃদ্ধ এ পাঠাগার।
যশোর ইনস্টিটিউট পরিচালনা পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু আমার দেশকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে তারা যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের অন্য প্রতিষ্ঠানটি হলো যশোর ক্লাব। ব্রিটিশ শাসনামলে মূলত এটি ছিল অফিসার্স ক্লাব। এই ক্লাবের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শান্তনু ইসলাম সুমিত আমার দেশকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্বল্প সময়ের জন্য এই ক্লাবে আসবেন এবং পূর্বনির্ধারিত কিছু কাজ করবেন।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল বিকালে শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। যশোর বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু জানান, জনসভায় বিপুল মানুষের সমাগম ঘটবে বলে তারা আশা করছেন। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন আমার দেশকে বলেন, জনসভা সফলের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

