সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও অপরাধ দমনে

পেট্রাপোলে বিজিবি-বিএসএফের বৈঠক অনুষ্ঠিত

পেট্রাপোলে বিজিবি-বিএসএফের বৈঠক অনুষ্ঠিত
ছবি: আমার দেশ

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যা বন্ধ, চোরাচালানসহ সব ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সীমান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে ভারতের পেট্রাপোল বিএসএফ কনফারেন্স সেন্টারে বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার এবং বিএসএফের সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি) পর্যায়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপক্ষীয় সীমান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

বৈঠকে বিজিবির ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান। অপরদিকে, বিএসএফের সাত সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি) দলজিত সিং।

বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদক পাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশসহ সব ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসে। পাশাপাশি সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় দুই বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদার, তথ্য বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সীমান্ত হত্যা বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়। এ প্রেক্ষাপটে সীমান্তে প্রাণহানি রোধ, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংযম ও পেশাদারত্ব বজায় রাখা এবং সীমান্তবর্তী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে দুই পক্ষের আলোচনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

বৈঠকে উভয় পক্ষ সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি পারস্পরিক আলোচনা, সহযোগিতা ও সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের বিষয়ে একমত পোষণ করে। সীমান্ত এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ আলোচনাকে ফলপ্রসূ, গঠনমূলক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করে। তাদের প্রত্যাশা, আলোচনায় উঠে আসা বিষয় এবং গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের সীমান্তবর্তী মানুষের নিরাপত্তা, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, বৈধ বাণিজ্য এবং পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা, চোরাচালান বন্ধ এবং সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দুই বাহিনীর কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন