পরিবারের বড় ছেলে। বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারের হাল ধরতে পাড়ি জমিয়েছিলেন প্রবাসে। ছোট ভাই প্রতিবন্ধী। বড় ছেলে হিসেবে সংসারের দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, প্রবাসে রুমমেটের ছুরিকাঘাতে মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন পুলক নাথ (২৫)। ছেলের মৃত্যুর শোক সামলাতে পারছেন না মা রানী বালা দেবী। কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছেলের নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা তুলে ধরছেন তিনি।
শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির মোছাফফা শহরে নিজ কর্মস্থলে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন নিহতের মা।
পুলক নাথ চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিবেকানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার মধুসূদন নাথের ছেলে। পরিবারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামস্থ দূতাবাসকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার পাঁচ বছর পর দেশে ফেরার কথা ছিল পুলক নাথের। কিন্তু এর আগেই ঘটে গেল মর্মান্তিক এ ঘটনা। এতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর গ্রামের বাড়িতে।
২ নভেম্বর সন্ধ্যায় পটিয়ার জিরি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় পুলকের মা রানী বালা দেবীর সঙ্গে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, তাঁর ছেলেকে মিশরীয় এক রুমমেট ২০ দিরহামের জন্য ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে। ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে রাঙ্গুনিয়ায় বসবাসকারী পরিবারের এক আত্মীয়ের মাধ্যমে পুলকের খুন হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন তাঁরা।
পুলকের মা আহাজারি করে বলেন, ‘আমার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল বড় ছেলে পুলক। ছোট ছেলে প্রতিবন্ধী। পরিবারের হাল ধরেছিল সে। এখন পরিবারকে কে দেখবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’
তিনি সরকারের কাছে ছেলের হত্যার বিচার দাবি করেন। পাশাপাশি ছেলের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।
পুলকের ছোট ভাই প্রতিবন্ধী অলক নাথ জানান, তাঁর ভাইয়ের কাছে মিশরীয় এক রুমমেট ২০ দিরহাম চেয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলকের বোন চুমকি দেবী বলেন, ‘আগামী শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দেশে আসার কথা ছিল ভাই পুলক নাথের। এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হবে আমার ভাই, তা কখনো ভাবিনি। পুরো পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ হয়ে গেছে।’
তিনি আরও জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই চট্টগ্রামস্থ আবুধাবি দূতাবাসকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। লাশ যাতে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, সে বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সাংবাদিক আসার খবরে স্থানীয় এলাকাবাসী জড়ো হন এবং সরকারের কাছে এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়াউল হক জানান, দূতাবাসের মাধ্যমে লাশ দেশে আনা যাবে। এছাড়া আমাদের কোনো করণীয় থাকলে আমরা সহযোগিতা করে যাব।
এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম বলেন, বৈধ শ্রমিক হলে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে আবেদন করলে যথাযথ পক্রিয়ায় লাশ চলে আসে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

