মোংলা বন্দরের পশুর নদীর চরে ভয়াবহ নৌ-দুর্ঘটনায় ৯১৪ টন ফ্লাইঅ্যাশ বোঝাই একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে।
শুক্রবার ভোরে পশুর ও মোংলা নদীর ত্রিমোহনা চরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান জাহাজে থাকা ১০ জন কর্মচারী।
ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজটির নাম এম.ভি মিজান-০১। জাহাজটির চালক মো. শওকত শেখ জানান, পশুর চ্যানেলে জাহাজটি নোঙর করা ছিল। হঠাৎ করেই এম.ভি কে আলম গুলশান-০২ নামের অপর একটি লাইটার কার্গো জাহাজ তাদের ওপর উঠে পড়ে। প্রচণ্ড ধাক্কায় মিজান-০১ এর তলা ও পাশ ফেটে যায় এবং মুহূর্তেই নদীর বুকে তলিয়ে যায়।
ভারতের কলকাতার ভেন্ডেল এলাকা থেকে ফ্লাইঅ্যাশ বোঝাই করে রওনা হওয়া জাহাজটি ঢাকার নারায়ণগঞ্জে বসুন্ধরা ঘাটে যাচ্ছিল। যাত্রা বিরতিতে মোংলা বন্দরের কাছে পৌঁছেই দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে দুর্ঘটনার সময় জাহাজে থাকা ১০ জন কর্মচারী সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে রক্ষা পান।
এ ঘটনায় নদী দূষণের আশঙ্কা দেখা দিলেও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, চ্যানেলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক (বোর্ড ও জনসংযোগ) মো. মাকরুজ্জামান আমার দেশ কে জানান, ‘এম.ভি মিজান-০১ নামক কার্গো জাহাজটি লাইটার জাহাজ এম.ভি কে আলম গুলশান-০২–এর ধাক্কায় ডুবে গেছে। তবে বন্দর চ্যানেল সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং সবধরনের নৌ-যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’
এদিকে, দুর্ঘটনার পর বন্দরের জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে—নোঙর করা জাহাজের ওপর কিভাবে একটি লাইটার কার্গো উঠে যেতে পারে? কেউ কেউ বিষয়টিকে অবহেলা জনিত দুর্ঘটনা হিসেবে দেখলেও একাধিক নৌ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন, এটি ছিল মারাত্মক গাফিলতি ও অদক্ষ নাবিকের কাজ।
এ ঘটনায় এখনো কেউ আটক হয়নি। তদন্তের দাবি উঠেছে স্থানীয় নৌ-শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

