রাজবাড়ীর জুলাই শহীদ গনির পরিবারের খোঁজ নেয় না কেউ

রাজবাড়ীর জুলাই শহীদ গনির পরিবারের খোঁজ নেয় না কেউ

রাজবাড়ীর জুলাই শহীদ আব্দুল গনি শেখের পরিবারের খোঁজ নেয় না কেউ। একমাত্র উপার্জনক্ষমকে হারিয়ে সংসার চালানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে তার স্ত্রীর। জুলাই বিপ্লবের পর অনেকেই সহযোগিতা করলেও এখন পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই।

বিজ্ঞাপন

শহীদ গনির স্ত্রী লাকি আক্তার পরিবার নিয়ে রাজবাড়ী সদরের খানখানাপুর গ্রামের নতুনবাজার এলাকায় বসবাস করেন। একমাত্র ছেলে আল আমিন ও শিশুকন্যা জান্নাতকে নিয়ে কোনোমতে দিন কাটছে তাদের।

শহীদ গনির স্ত্রী লাকি জানান, স্বামী জীবিত থাকতে ধারদেনা করে একটি পাকা ঘরের কাজ শুরু করেছিলেন। জুলাই বিপ্লবে গনি শহীদ হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নানা অনুদান পান। এককালীন ৩০ লাখ টাকার মধ্যে ২০ লাখ টাকা পেয়েছেন। এর মধ্যে তার শ্বশুরকে ১০ লাখ টাকা দিয়েছে প্রশাসন। সেই ১০ লাখ টাকা দিয়ে ঘরের অবশিষ্ট কাজ করেছি। মাসিক ভাতা ২০ হাজার টাকার মধ্যে ১৩ হাজার টাকা তিনি পান, অবশিষ্ট সাত হাজার টাকা পান তার শ্বশুর।

জুলাই শহীদদের অনুদান বা ভাতা পিতা ও স্ত্রীর মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার বিধান সরকারিভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

লাকি আরো জানান, এখন তিন সদস্যের পরিবার চালানো তার পক্ষে দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। মেয়েটি ক্লাস ওয়ানে একটি কিন্ডারগার্টেনে পড়ে। তাকে বড় করা, লেখাপড়া শেখানো, বিয়ে দেওয়া পর্যন্ত অনেক খরচ। এসব নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় আছেন।

শহীদ গনির পৈতৃক বাড়ি পাশের ইউনিয়ন আলীপুরে। শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রীর ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমিতে ঘর তুলে বসবাস করে আসছিলেন গনি। বর্তমানে সেখানে নির্মিত বাড়িতেই লাকি বসবাস করেন। তার অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির জমির ভাগ দিচ্ছেন না দুই দেবর।

এ বিষয়ে লাকির শ্বশুর আব্দুল মজিদ শেখের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, বাড়ির জমির অংশ তিনি দিতে রাজি। কিন্তু দুই ছেলের বাধার কারণে তিনি তা দিতে পারছেন না।

শহীদ গনির শিশুকন্যা জান্নাত আক্তার (৮) জানায়, বাবা তাকে ভীষণ আদর করত। মৃত্যুর কদিন আগে বাড়িতে এসেছিলেন। ও-ই তার শেষ দেখা। জান্নাত কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার বাবার হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড দাবি করে।

মামলার বিষয়ে শহীদ গনির স্ত্রী জানান, ওই সময় তার শ্বশুর মামলা করেছিলেন। মামলার অগ্রগতি বা এর ভবিষ্যৎ তিনি কিছুই বলতে পারবেন না। গনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৫ আগস্টের পর গুলশান থানায় মামলা করেন বাবা আব্দুল মজিদ। তিনি জানান, মামলার কিছুদিন পর গুলশান থানায় যোগাযোগ করলে ওসি তাকে আসতে হবে না বলে জানান। মজিদ শেখ জানান, মামলার কোনো নথি তাকে দেয়নি পুলিশ। মামলার নম্বর বা সূত্র তিনি কিছুই বলতে পারবেন না।

ঢাকার গুলশান-২-এ সিক্স সিজন হোটেলে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন গনি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন যখন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়, তখন সাধারণ মানুষের মতো তিনিও রাস্তায় বেরিয়ে যান। ১৯ জুলাই তিনি শাহজাদপুর বাঁশখালী এলাকায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার সঙ্গে যোগ দেন। এক পর্যায়ে পুলিশ ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচার গুলিবর্ষণ করে। এতে তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। সে সময় পাশে থাকা একজন তার পকেট থেকে মোবাইল নিয়ে ফোন করে গনির স্ত্রীকে বিষয়টি জানান। তিনদিন পর ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গ থেকে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে খানখানাপুরের বড় মসজিদের পাশের গোরস্তানে তাকে দাফন করা হয়।

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন