কালীগঞ্জে পোলট্রি খামারের দুর্গন্ধে গাছতলায় পাঠদান

কালীগঞ্জে পোলট্রি খামারের দুর্গন্ধে গাছতলায় পাঠদান
মাদরাসার পাশে মুরগির খামার, দুর্গন্ধের মধ্যেই ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। আমার দেশ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারপাকিয়া দাখিল মাদরাসার পাশে গড়ে ওঠা পোলট্রি খামারের দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। দুর্গন্ধের কারণে অধিকাংশ সময় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করানো সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে বাধ্য হয়ে শ্রেণিকক্ষের বাইরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে শিক্ষকদের।

জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার বারপাকিয়া গ্রামের মলিনা বেগম নিজ বাড়িতে পোলট্রি খামার গড়ে তুলেছেন। মাদরাসার পাশে হওয়ায় খামার থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়মিত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমানে লেখাপড়ার পরিবেশ চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এমনকি আশঙ্কাজনকভাবে কমতে শুরু করেছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার। মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুরসালি জানান, মারাত্মক দুর্গন্ধে এ মাদরাসার শ্রেণিকক্ষে লেখাপড়া করতে আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থা বিরাজমান থাকলেও কোনো সমাধান মিলছে না।

বিজ্ঞাপন

মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আমরা জানিয়েছি। তিনি আমাদেরকে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলেন এবং আমরা সেখানে লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সামাজিকভাবে চেষ্টা করেও আমরা ব্যর্থ হয়েছি। প্রচণ্ড দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে বিদ্যালয়ে ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে খামারের মালিক মলিনা বেগম বলেন, তিনি নিজ বাড়িতে অল্প পরিমাণে পোলট্রি পালন করেন। এক মাস বয়স হলে মুরগিগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়। তার দাবি, প্রথম ২০ দিন খামারে তেমন কোনো দুর্গন্ধ থাকে না, শেষের দিকে প্রায় ১০ দিন কিছুটা দুর্গন্ধ হয়। এ সময়টুকু মাদরাসার শিক্ষার্থীরা সহ্য করলে কী এমন হয়। এলাকার কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে এ ধরনের পোলট্রি খামার থাকা কাম্য নয়। দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে খামারটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। এছাড়া পথচারীরাও দুর্গন্ধে চলাচলে অতিষ্ঠ উঠেছেন।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, মাদরাসা থেকে শিক্ষকরা আমার কাছে এসেছিলেন। বর্তমানে বিষয়টি কী পর্যায়ে আছে তা খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কমল কুমার বর্মনের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন