আসন্ন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে শেরপুরের পূজামণ্ডপগুলোতে মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতে মাটি, বাঁশ ও খড় দিয়ে দেব-দেবীর প্রতিমা তৈরির ধুম পড়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর শেরপুর জেলার পাঁচটি উপজেলা ও চারটি পৌরসভায় মোট ১৭১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
শেরপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পালপাড়াসহ জেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মণ্ডপে মণ্ডপে দেব-দেবীর প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে পুরোদমে। কেউ বাঁশ ও কাঠ দিয়ে কাঠামো তৈরি করছেন, কেউ খড় বাঁধছেন, আবার কেউ পরম যত্নে মাটির প্রলেপ দিয়ে প্রতিমার অবয়ব ফুটিয়ে তুলছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিখুঁতভাবে কাজ শেষ করতে মৃৎশিল্পীরা দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
প্রতিমা তৈরির সার্বিক প্রক্রিয়া নিয়ে কারিগররা জানান, শুরুতে কাঠ, বাঁশ ও খড় দিয়ে প্রতিমার প্রাথমিক অবকাঠামো প্রস্তুত করা হয়। এরপর প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় মাটির প্রলেপ দিয়ে ধীরে ধীরে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়। মাটির নিখুঁত প্রলেপ শুকানোর পর শুরু হবে সৌন্দর্যবর্ধক রঙের কাজ ও জমকালো রূপসজ্জা।
তবে বর্তমান বাজারপরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তারা বলেন, চাল-ডালসহ প্রতিমা তৈরির সব উপকরণের দাম দ্বিগুণ বাড়লেও প্রতিমার কাঙ্ক্ষিত দাম বাড়ছে না। তবুও পূর্বপুরুষের পেশা ও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে শত কষ্টের মধ্যেও প্রতিমা গড়ার কাজ আঁকড়ে ধরে আছেন তাঁরা।
সার্বিক সুরক্ষার বিষয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট শেরপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক জিতেন্দ্র মজুমদার বলেন, এ বছর শেরপুর জেলার মোট ১৭১টি পূজামণ্ডপে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে। প্রতি বছরের মতো এবারও প্রতিটি মণ্ডপে আমাদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। এর পাশাপাশি জেলা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন প্রতিটি মণ্ডপে নিশ্ছিদ্র ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করে—আমরা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সেটাই প্রত্যাশা করি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

