ময়মনসিংহের ফুলপুর ও তারাকান্দায় পৃথক দু’টি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নয়জন নিহতের পর আরো দু’জনসহ ১১ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১৮ জন।
শুক্রবার বিকেল ও রাতে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহতদের মধ্যে বেশিরভাগই মাহিন্দ্রা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিহত আরো দুজনের মধ্যে একজন সিএনজি অটোরিকশা চালক।
শুক্রবার রাতে ঢাকা-হালুয়াঘাট মহাসড়কের ফুলপুর পৌর এলাকার কাজিয়াকান্দা বাঁশবাড়ি (ইন্দারাপাড়া) এলাকায় ঢাকাগামী শ্যামলী বাংলা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী মাহিন্দ্রা থ্রিহুইলারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন নিহত হন এবং গুরুতর আহত হন অন্তত ১৭ জন। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার নিজগুড্ডিমারী গ্রামের কাজিম উদ্দিন (২৮), হালুয়াঘাটের জয়রামকুড়া গ্রামের রুবেল (৩০), কয়রাহাটী গ্রামের শামসুদ্দিন (৬৫), বালিজুরির হাছিনা খাতুন (৫০), ফুলপুরের কাজিয়াকান্দার ফরিদ মিয়া (৩৮), নয়ন মিয়া (৪০), নিশুনিয়াকান্দা গ্রামের জহের আলী (৭০), নেত্রকোণার পূর্বধলার লাল মিয়া (৩৬)। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাতেই দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম এবং ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম সীমা।
অপরদিকে শুক্রবার বিকেলে তারাকান্দা উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকার হিমালয় ফিলিং স্টেশনের সামনে একটি অ্যাম্বুলেন্স ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মারা যান এক নারী ও এক শিশু এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সিএনজি চালকও মারা যান।
নিহতরা হলেন ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার বরাটিয়া গ্রামের জবেদা খাতুন (৮৫), ফুলপুরের মদীপুর সুতারপাড়ার রাকিবুল হাসান (১৫) ও ময়মনসিংহ সদরের শুইলাম বুধবারিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলম।
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ মো. সফিকুল ইসলাম জানান, আহত চারজন সার্জারি ও অর্থোপেডিক্স ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন অ্যাম্বুলেন্সের হেলপার।
তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টিপু সুলতান জানান, দুর্ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্সের চালক পালিয়ে যান। দুর্ঘটনার শিকার অ্যাম্বুলেন্সটি হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্তর্ভুক্ত হলেও, তাতে কোনো রোগী ছিল না। নিহতদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

