হলুদে এবার ৬০ কোটি টাকার সম্ভাবনা

হলুদে এবার ৬০ কোটি টাকার সম্ভাবনা
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় হলুদের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। অতিবৃষ্টি, খরা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে এবার তৃপ্তির হাসি হাসবেন চাষিরা। হলুদ চাষ অন্য ফসলের চেয়ে অধিক লাভজনক। অল্প জমিতে কম খরচে অধিক হলুদ চাষ করা সম্ভব। এ ফসলের গরু-ছাগল ও পোকামাকড়ের কোনো উপদ্রব নেই। ফসলহানির শঙ্কাও কম। পরিত্যক্ত জমিতে হলুদের চাষ ভালো হয়। মসলাজাতীয় খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে হলুদের চাহিদা অনেক। দামও অন্য ফসলের চেয়ে ভালো।

কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর উপজেলায় প্রায় পাঁচ হাজার মেট্রিক টন হলুদ কৃষকরা ঘরে তুলবেন, হলুদের বর্তমান বাজারমূল্যে যা প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন

ফুলবাড়ীয়ায় পাহাড়ি এলাকা আর লাল মাটি থাকায় এলাকার হলুদ রঙে, গন্ধে ও স্বাদে অতুলনীয়। দেশজুড়ে এর বিশাল চাহিদা রয়েছে। দেশের অর্থনীতিতেও ব্যাপক অবদান রাখছে। হলুদ উত্তোলনের সময় হলে ফরিয়ারা ঘুরঘুর করেন কৃষকের বাড়ি বাড়ি। কৃষকের ক্ষেত থেকে হলুদ কেনা শুরু হয়। কেশরগঞ্জ ও বাকতা বাজারে সপ্তাহে দুদিন বসে সবচেয়ে বড় হলুদের হাট। পার্শ্ববর্তী মধুপুর ও ঘাটাইল উপজেলা থেকে কৃষক হলুদ বিক্রি করতে আনেন এই হাটে। ভরা মৌসুমে কেশরগঞ্জ বাজারে প্রতি হাটে ৮০ লাখ থেকে ৯০ লাখ টাকার হলুদ বেচাকেনা হয়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ৯৫০ হেক্টর জমিতে হলুদের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর হলুদের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে কাঁচা হলুদ উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ১৭ মেট্রিক টন। কাঁচা হলুদ সিদ্ধ করার পর শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা শেষে হেক্টরপ্রতি সাড়ে চার মেট্রিক টন হলুদ ঘরে তুলতে পারবেন কৃষক। নাওগাঁও, রাঙামাটিয়া, বাকতা, কালাদহ ও কুশমাইল ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রচুর হলুদ আবাদ হয়েছে এ অঞ্চলে। এ বছর হলুদের আবাদ কম হলেও ফলন হয়েছে ভালো।

প্রতি কাঠায় কাঁচা হলুদ হয়েছে ১২ থেকে ১৫ মণ পর্যন্ত। ক্ষেতে কাঁচা হলুদ হতে পারে। কাঁচা হলুদ ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হয়। গত বছরের চেয়ে এ বছর প্রতি মণ শুকনা হলুদ ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা বেশি দরে বিক্রি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কালাদহ গ্রামের আব্দুল হালিম, অন্তপুরের গ্রামের আব্দুল হাই সিকদার, সন্তোষপুর গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী বলেন, এ বছর যেসব কৃষক হলুদ করেছেন, তারা সবাই লাভবান হবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুকান্ত ধর বলেন, ফুলবাড়িয়ায় ৯৫০ হেক্টর জমিতে হলুদের চাষ হয়েছে। উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া, হাতিলেট, নওগাঁও, সন্তোষপুর, বাকতাসহ অনেক এলাকায় প্রচুর পরিমাণে হলুদ চাষ হয়েছে। হলুদ বছরব্যাপী ফসল হওয়ায় সাথী ফসল হিসেবে কৃষকরা এর আবাদ করে থাকেন। হলুদে তেমন কোনো ধরনের রোগবালাই নেই বললেই চলে। হলুদ চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। হলুদ রোপণ থেকে শুরু করে উৎপাদন পর্যন্ত কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাঠে গিয়েও কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করেন বলে তিনি জানান।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন