এক যুগেও চালু হয়নি বাহুবলে ট্রমা সেন্টার

এক যুগেও চালু হয়নি বাহুবলে ট্রমা সেন্টার
বাহুবলে ট্রমা সেন্টার। ছবি: আমার দেশ

হবিগঞ্জ জেলার দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে তিন কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাহুবল ট্রমা সেন্টার এক যুগের অধিক সময় পরও চালু হয়নি। জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সংকটের অজুহাতে জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটির স্বাস্থ্যসেবা শুরু না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে হতাশা।

জানা যায়, ২০১৩ সালে গণপূর্ত বিভাগ ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে বাহুবল অর্থোপেডিক্স হাসপাতাল ট্রমা সেন্টারের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। কিন্তু নির্মাণের এক যুগেরও বেশি সময় পার হলেও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র সরবরাহ না হওয়ায় পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। অথচ ট্রমা সেন্টারের নির্ধারিত ভবনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য বিভাগের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ট্রমা সেন্টারের কয়েকটি রুম ব্যবহৃত হচ্ছে আনসারদের অস্থায়ী ক্যাম্প হিসেবে। গত জুন মাসে ১৫ দিনের জন্য সাময়িকভাবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়রা জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক একটি ঝুঁকিপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিশেষ করে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থেকে নবীগঞ্জের আউশকান্দি পর্যন্ত অংশে প্রায়ই ঘটে সড়ক দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য কোনো বিশেষায়িত ট্রমা সেন্টার না থাকায় মুমূর্ষু রোগীদের ঢাকায় পাঠাতে হয়। এতে সময়ক্ষেপণ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে এবং অনেকেই স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণের প্রায় এক দশক পর ২০২৩ সালের ৮ জুন গণপূর্ত বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে ভবনটি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে। পরে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ স্থাপন করা হয়। ট্রমা সেন্টারের জন্য চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানসহ কোনো পদ এখনো অনুমোদিত না হওয়ায় এসব পদে কাউকে পদায়ন করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় এক্স-রে মেশিন, অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতি, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামও সরবরাহ না হওয়ায় সেবা কার্যক্রম শুরু করা যায়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহেল মারুফ ফারুকী বলেন, ট্রমা সেন্টারটি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তরের পর প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পত্র পাঠানো হয়।

হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস জানান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল পদায়ন না হওয়া এবং আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ না পাওয়ায় ট্রমা সেন্টারটি চালু করা যায়নি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...