নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে মুন্নী আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মুন্নীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।
সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের কয়ড়াপাড়া গ্রাম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত মুন্নী আক্তার কয়ড়াপাড়া গ্রামের সোহাগ মিয়ার স্ত্রী এবং উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের সোনারামপুর গ্রামের ইদ্রিছ আলীর মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে সোহাগের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের কোনো সন্তান নেই।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে স্বামীর ঘরে মুন্নীর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। পরে তাকে বিছানায় শুইয়ে রেখে স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে চলে যান বলে স্থানীয়দের দাবি।
খবর পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিছানায় শোয়ানো অবস্থায় মুন্নীর লাশ উদ্ধার করে। নিহতের চাচাতো ভাই মো. মিঠু বলেন, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সোহাগের পরিবারের লোকজন ফোন করে মুন্নী মারা গেছেন এবং তার ফাঁস লেগেছে বলে জানান।
পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি কক্ষে বিছানার ওপর মুন্নীর লাশ দেখতে পান। এ সময় তার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের সদস্যদের কাউকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।
মিঠুর অভিযোগ, মুন্নীকে হত্যার পর তার লাশ ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিল। পরে মাথায় পানি ঢেলে ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় সোহাগসহ তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হবে বলে জানান তিনি।
মোহনগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক জসিম উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মুন্নীর লাশ উদ্ধার করে। তার গলায় ফাঁসের দাগ রয়েছে। তবে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে মুন্নীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

