জামালপুরের বকশীগঞ্জে উপজেলার বিশাল ভূখণ্ড নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল উপজেলা সাব-জেল বা উপকারাগার। ১৯৮৪ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলেও বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার কারণে আজও উদ্বোধনের মুখ দেখেনি প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘ চার দশক ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা এটি একটি জাতীয় অপচয় এবং স্থানীয় প্রশাসনিক স্থবিরতার বড় উদাহরণ।
পুরোনো নথি ঘেঁটে দেখা যায়, প্রায় ২ দশমিক ৭৩ একর বা দেশীয় হিসাবে প্রায় আট বিঘারও বেশি জমির ওপর নির্মিত হয়েছিল এই সাব-জেল কমপ্লেক্স। সেই সময় গ্রামীণ অঞ্চলের জন্য পরিকল্পিত একটি পূর্ণাঙ্গ উপকারাগারে বন্দিদের জন্য ব্যারাক, প্রশাসনিক ভবন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক কোয়ার্টার, খেলার মাঠ এবং একটি বড় পুকুর খনন করা হয়েছিল। তবে কত টাকা ব্যয়ে এ কারাগার নির্মাণ করা হয়েছিল সে তথ্য পাওয়া যায়নি। সে সময়ে বকশীগঞ্জসহ আশপাশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের জামালপুর জেলা কারাগারে আনা-নেওয়ার দীর্ঘ পথ ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে এই কারাগার নির্মাণ করা হয়। কিন্তু অজানা প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতায় প্রকল্পটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে কারাগারের ভবনগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে দেয়ালে ফাটল, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া এবং জানালা-দরজার অনেক অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। চারপাশে ঝোপঝাড়ে ভরে গেছে পুরো এলাকা। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় স্থানটি অনেকটাই জনমানবশূন্য পরিবেশে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন নজরদারির অভাবে সরকারি এই মূল্যবান সম্পদের কিছু অংশে দখল ও চাষাবাদের প্রবণতা দেখা দিয়েছে। যথাযথ সংরক্ষণ না হলে ভবিষ্যতে পুরো জায়গাটিই বেদখলের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন নাগরিকরা।স্থানীয় অধ্যাপক আফসার আলী বলেন, ‘১৯৮৪ সালে এরশাদ সরকারের আমলে বকশীগঞ্জে এই জেলখানা নির্মাণ করা হয়েছিল, কিন্তু কোনো কারণে এর কার্যক্রম চালু না হওয়ায় বিশাল পরিমাণ জমি দখল করে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে জেলখানাটি। এর মূল গঠন ঠিক রেখে ভেতরে শিশু বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে স্মৃতিস্বরূপ জেলখানার অবস্থান থাকার পাশাপাশি শিশুরা আনন্দ উপভোগ করতে পারবে। এছাড়া কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হলে এই এলাকার কৃষকরা লাভবান হতে পারবে।’
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোসা. কনিকা খাতুন বলেন, ‘এই স্থাপনাটি ২০০৩ সালে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে দেখভালের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হয়। এর পর থেকে বকশীগঞ্জ সমাজসেবা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে পরিত্যক্ত জেলখানা, খালি মাঠ ও পুকুরটি জনকল্যাণে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি। আশা করি, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নির্দেশনা এলে আমরা এই পরিত্যক্ত স্থাপনাটি কাজে লাগাতে পারব।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুরাদ হোসেন বলেন, ‘বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিত্যক্ত উপ-কারাগারটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে। পরিত্যক্ত কারাগারটি জনগণের সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য পদক্ষেপ চলমান রয়েছে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

