আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

কেউ যেন হলুদ চাদর বিছিয়ে রেখেছে, সরিষা ফুলে মুগ্ধ সবাই

আজহারুল হক, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ)

কেউ যেন হলুদ চাদর বিছিয়ে রেখেছে, সরিষা ফুলে মুগ্ধ সবাই

সরিষা ফুলে ফুলে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ হলুদ বরণ ধারণ করেছে। যেদিকে চোখ যায়, মনে হয় কেউ যেন হলুদ চাদর বিছিয়ে রেখেছে। ঝলমলে এসব সরিষার ফুল অপূর্ব শোভা ছড়াচ্ছে।

দিগন্তজুড়ে প্রকৃতির অপূর্ব সৃষ্টি মাঠভর্তি হলুদ রঙা সরিষাগাছের দোলা দেখলে যে কারও মন দুলে উঠবে। সবার চোখ আটকে যাবে। উপজেলার সরিষা ক্ষেতগুলোর হলুদ সরিষা ফুলগুলো বাতাসে দোল খাচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে সড়কের যাত্রী ও পথিককে। আর তাতে মুগ্ধ হচ্ছেন সবাই।

বিজ্ঞাপন

পল্লী কবি জসীম উদ্দিন তার আগমনী কবিতায় লিখেছেন -আরো একটুকা এগিয়ে গেলেই সরষে খেতের পারে, তোমারে আমার যত ভাল লাগে, সে অপুরাগের হলুদ বসন বিছাইয়া আছে দিক দিগন্ত ভরে।

সরিষা ফুলের হলুদের সৌন্দর্য্য মানুষ শুধু নয়, শস্য শ্যামল বাংলাকেও মুগ্ধ করে হাসি ফোটায় কৃষকের মুখে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শাকুরা নান্মী জানান, গফরগাঁও উপজেলায় এবার ২৯৬০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে উস্থি ইউনিয়নে।

সরিষা ফুলের হলুদ রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত যেমন মাঠ, তেমনি বাম্পার ফলনের হাতছানিতে কৃষকের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাসি। যেন সরিষার হলুদ হাসিতে স্বপ্ন দেখছে কৃষক।

শীতকালে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে গ্রামের মাঠে মাঠে এবং চরাঞ্চলে সরিষা ক্ষেতের চোখ জোড়ানো নয়াঅভিরাম দেখতে পাওয়া যায়। সরিষা আবাদ করলে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়, ইউরিয়া সারের সাশ্রয় হয়, সরিষা ক্ষেত থেকে মধু উৎপাদন করা যায়। ভোজ্য তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া সরিষার খৈল জৈব সার ও গো-খাদ্যের উপকার করে।

একটা সময় ছিল গ্রামাঞ্চলের কোলোর বাড়িতে গরুর চোখে পটি বেধে তেল টেনে সরিষার বীজ থেকে খাটি তেল তৈরি হতো। এখন আর তা চোখে পড়ে না। বর্তমানে ঘানির বদলে বৈদ্যুতিক তেল কল চালু হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...