ডিসকলেজিয়েট শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফরম পূরণকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উর্দু বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলামকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার নাম বুলবুল রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি।
বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উর্দু বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তৌকিরের উপস্থিতির হার ৪৯ শতাংশ হওয়ায় তাকে ডিসকলেজিয়েট করা হয়। ফলে তার পরীক্ষার ফরম পূরণ ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিভাগ। ওই শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে দেখা করেন ছাত্রদল নেতা বুলবুল রহমান। এ সময় দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পরও সভাপতি রাজি না হওয়ায় তাকে গালাগাল ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে বুলবুলের বিরুদ্ধে।
বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলামের অভিযোগ, একপর্যায়ে তিনি ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তার মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ ছাড়া জনসমক্ষে তার হাত ধরে টানাটানি ও আপত্তিকর মন্তব্য করে তাকে হেনস্তা করা হয়।
এ বিষয়ে অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সে আমার বিভাগের সাবেক ছাত্র। সে আমাকে ফোন করে দেখা করতে বলে। তখন আমি বাসায় যাওয়ার পথে তার সঙ্গে দেখা করি।
তিনি আরো বলেন, ‘তার রাগটা মূলত অন্য জায়গায়। সে এই বিভাগের শিক্ষক হতে চায়; কিন্তু তার অনার্সে সিজিপিএ কম থাকায় সে আবেদন করতে পারেনি। তারপর থেকেই সে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত এবং এখনো পর্যন্ত সে শিক্ষক হবেই—এমন একগুঁয়ে মানসিকতা পোষণ করে।’
অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ প্রকাশ্যে সবার সামনে এমন আচরণ আমার জন্য খুবই লজ্জাজনক। আমি প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি, তারা আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা বুলবুল রহমান বলেন, ‘আমি আমার ছোটভাইয়ের জন্য তার কাছে অনুরোধ করেছি, যেন তাকে মানবিক দিক বিবেচনা করে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়। সে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিল, যার কারণে ক্লাস করতে পারেনি। এর বাইরে আমি আর কিছু করিনি। এটা তো কোনো বন্ধ ঘরের ভেতরে নয়, সবার সামনে আমি কেন তাকে হেনস্তা করতে যাব?
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহা. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। আমরা স্যারদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। সভাপতির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমাদের কাছে কিছু তথ্য এসেছে, তবে এখনো সব তথ্য পাইনি। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

