রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের ৪১ টন ইউরেনিয়ামের চালান

রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের ৪১ টন ইউরেনিয়ামের চালান
ছবি: আমার দেশ

পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের আরও একটি চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় তিনটি লরিতে করে জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

এর আগে সোমবার সকালে রাশিয়া থেকে ভারতের দিল্লি হয়ে জ্বালানিবাহী উড়োজাহাজ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। আভিয়াকন জিতোট্রান্স পরিচালিত এজেডএস-৬৭১৩ ফ্লাইটে ১২টি টিপিএসে মোট ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানি আনা হয়। বিমানবন্দরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তারা জ্বালানি বুঝে নেন।

মঙ্গলবার সকালে জ্বালানিবাহী তিনটি লরি ঢাকা থেকে রূপপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে লরিগুলো প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়। পথে মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি এসআরবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।

পুলিশ ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জ্বালানি পরিবহনের সময় সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যানজট এড়াতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ সময় মহাসড়কে সাময়িকভাবে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গোতে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রথম ইউনিটে জ্বালানি পুনঃস্থাপনের জন্য দুটি কার্গোতে আরও ৪৮টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার কথা রয়েছে। চলতি চালানটি দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহের তৃতীয় চালান।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে আরও সাতটি ফ্লাইটে রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়ামের চালান বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। এসব চালান কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে দেশে পৌঁছাবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রসাটম জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে।

এর আগে ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি দেশে পৌঁছায়। ওই বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে আরও চারটি চালানে জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়। চলতি বছরের মে মাসে প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি স্থাপনের কাজ শুরু হয়। নির্ধারিত সময় পরপর চুল্লির ব্যবহৃত জ্বালানির একাংশ পরিবর্তন করতে হয়। এ কারণে প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত জ্বালানির একটি চালান গত ৩ অক্টোবর রূপপুরে আনা হয়। সর্বশেষ গত ২১ অক্টোবর দ্বিতীয় ইউনিটের দ্বিতীয় চালানের জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি সরবরাহ করবে। এরপর নির্ধারিত সময় পরপর জ্বালানি পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশকে তা আমদানি করতে হবে। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

প্রথম ইউনিটে জ্বালানি স্থাপনের কাজ শেষ হলেও বিভিন্ন কারিগরি জটিলতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সূচি পিছিয়েছে। স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমনব্যবস্থার নিরাপত্তা ভালভে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় চলতি মাসে উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ভালভটির তৃতীয় দফার পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। পরে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনক্রমে ১১ অক্টোবর চুল্লিতে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করা হয়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি সপ্তাহে প্রথম ইউনিটে বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে ইউনিটটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘স্টেজ-সি’ বা ‘পাওয়ার স্টার্টআপে’ প্রবেশ করবে। এ পর্যায়ে ধারাবাহিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কেন্দ্রের বিভিন্ন ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সম্পন্ন হলে আগামী নভেম্বরেই প্রথম ইউনিটের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...