পাবনার চাটমোহর উপজেলার ৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক প্রধান ও সহকারী শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিস। কয়েক মাস আগে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে জারি করা শিক্ষার্থীদের মৌলিক স্বাক্ষরতা ও সংখ্যা জ্ঞান (এফএলএন) কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারায় তাদের বিরুদ্ধে শোকজ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় চাটমোহর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. আব্দুল গনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় গত ৩০ জুনের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা রিডিং, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গণিতের চারটি মৌলিক নিয়ম (যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাবলীল ইংরেজি রিডিং নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
৩৮.০১.৭৬২২.০০০.১৬.০০১.২৬-৬১৯ নম্বর স্মারকের বরাতে নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, একাধিক নির্দেশনা ও তদারকির পরও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এ অবস্থায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একাধিক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিখন দক্ষতা নিশ্চিত করতে সরকার এফএলএন কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শোকজপ্রাপ্ত স্কুলগুলোর মধ্যে রয়েছে– পৌর সদরের শালিখা ও দোলং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এছাড়া রামনগর, ভাদ্রা,ধরইল, হরিপুর চরইকোল, উথুলী,আশঙ্কা, ফৈলজানা,কুয়াবাসি, পবাখালী,ঈদিলপুর, শরৎগঞ্জ, জগন্নাথপুর,কচুগাড়ী, ঝবঝপবিয়া,ঘাসিখোলা, লক্ষীপুর, সাইপাই, দীঘুলিয়া, কুঠিপাড়া দেয়ার পাড়া মেঘার পাড়া,কচিয়া,সোহাগবাড়ি, লক্ষীপুর দক্ষিণপাড়া, আলমনগর, বোয়ালিয়া, বনগ্রাম, আরিঙ্গাইল, বারোকোনা, বালুদিয়ার, জামালপুর, বনগ্রাম চকপাড়া, শুইগ্রাম,খতবাড়ী পুরান পাড়া, বামন গ্রাম-২, ভবানীপুর, বামন গ্রাম-১, দিলালপুর, কাটাখালি, নেয়তিগাছা,লাউতিয়া, ধানবিলা ফয়েজ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক।
তবে এ বিষয়ে শোকজপ্রাপ্ত কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভিভাবকদের উদাসীনতা, শিক্ষার্থীদের মনোযোগের অভাব, অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট, অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজ, প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্কুল হওয়ায় যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকা, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তারা লিখিত ব্যাখ্যা দেবেন বলে জানান।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. আব্দুল গনি বলেন, উপজেলার ৪৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশের আওতায় কোনো স্কুলে চারজন শিক্ষক, কোনো স্কুলে তিনজন আছেন। আবার অনেক স্কুলে এর চেয়ে বেশিও শিক্ষক আছেন। নোটিশের জবাব সঠিকভাবে না দেওয়া হলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

