সরকার নির্ধারিত নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তাড়াশ উপজেলায় সারের ডিলার নিয়োগের তালিকা ঘিরে কোটি টাকার লেনদেন, দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং আইন বহির্ভূতভাবে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে।
তালিকায় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, নেতার ছেলে, ভাই, ভাতিজা, স্ত্রী ও ঘনিষ্ঠজনদের নাম থাকলেও বাদ পড়েছেন দীর্ঘদিনের সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ীরা। ফলে নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব ও পারিবারিক সম্পর্ককে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ব্যবসায়ী, বিএনপির একাংশের নেতাকর্মী এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা।
মঙ্গলবার রাতে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে নতুন ডিলারদের তালিকা প্রকাশের পরপরই বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। স্বজনপ্রীতি ও অর্থের বিনিময়ে দলীয় ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় বিএনপির একাংশ সামাজিক মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, আবেদনকারীদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা এবং যাচাই-বাছাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিয়োগসংক্রান্ত তালিকার তথ্য অনুযায়ী, তাড়াশ পৌরসভায় সার ডিলার হিসেবে অনুমোদিত হয়েছেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার সেলিম জাহাঙ্গীরের ছেলে খন্দকার শাফি জাহাঙ্গীর। তার প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স শাহেরা আকবর এন্টারপ্রাইজ। তালম ইউনিয়নে রীনা সুলতানা’র মেসার্স স্বাধীন ট্রেডার্স, তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান হোসেনের স্ত্রী। বারুহাস ইউনিয়নে বেনজিন আহমেদ (শফি)’র মেসার্স শাহানা ট্রেডার্স। তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও উপজেলা বিএনপির সদ্য সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান টুটুলের খালাতো ভাই। মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নে শাহিনুর ইসলাম শাহিনের শশী সারিন ট্রেডার্স। তিনি উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি স ম আফসার আলীর ভাই।
তালিকা বিশ্লেষণ ও মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নতুন তালিকায় মনোনীত অনেকেরই প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা নেই। যোগ্যতা, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়, দলীয় সুপারিশ, প্রভাবশালীদের আত্মীয়স্বজন ও মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই না করেই জেলা থেকে পাঠানো তালিকা অনুমোদন করেছে। এতে সার বিতরণ ব্যবস্থায় অনিয়ম ও কৃষকের ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তাড়াশ উপজেলায় বিসিআইসির ১২ জন, বিএডিপির ১৭ জন এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ৭২ জন সাব-ডিলার রয়েছেন। নতুন নীতিমালায় প্রতিটি এলাকায় একজন করে ডিলার দেওয়ার পর বিদ্যমান ডিলারদের ভাগ্যে কী ঘটবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখছেন, বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) তাড়াশ উপজেলার সভাপতি মো. আমিরুজ্জামান। পাশাপাশি তিনি আরো জানিয়েছেন, তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্ধকারে আছেন। পুরোপুরি অনভিজ্ঞরা ডিলারশিপ পেলে সুষ্ঠু সার বিতরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে।
এ নিয়ে বুধবার সকালে তাড়াশের জনগণ, আপনারা কি বলেন এমন প্রশ্ন ছুড়ে সামাজিক মাধ্যমে তাড়াশ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক জাহিদ ফকির লিখেছেন, পারিবারিক হিসাব মিলিয়ে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাহ.. অভিনন্দন খন্দকার শাফি জাহাঙ্গীর, শাহিনুর ইসলাম শাহিন ও খালাতো ভাই বেনজিন আহমেদ (শফি) আপনারা ধন্য..? প্রিয় আর ডিলারের টাকা কে কত নিলেন হিসাব কি মিলছে..? আপনাদের আধিপত্যে.. চমৎকার, সুন্দর পরিবারের বিজয় হোক।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে দুই নেতার সাথে যোগাযোগ করার জন্য একাধিকবার কল করলে নাম্বার দুটি বন্ধ পাওয়া যায়। আর হজ বা ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে থাকায় সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হকের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে আইন বহির্ভূতভাবে টাকার বিনিময়ে ত্রুটিপূর্ণ, স্বজনপ্রীতি ও অযোগ্য ব্যক্তিদের আবেদনও বৈধ হিসাবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম মুঠোফোনে জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

