সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম মল্লিককে তুলে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শহীদ ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠেছে।
এ ঘটনায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার রাতে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম মল্লিক।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সদর উপজেলার চর সাচালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ভাগিনা ইকবাল হাসানের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী কামারখন্দ উপজেলার আসাব উদ্দিন মোল্লার মেয়ে আমিনা খাতুনের বিয়ে হয়। পরবর্তীতে ইকবাল হাসান তাঁর স্ত্রীকে তালাক দেন। এ ঘটনায় আমিনা খাতুন আদালতে যৌতুক মামলা দায়ের করেন।
বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম তাঁর ভাগিনা ও ভগ্নিপতিকে তাদের কাছে হাজির করতে চাপ দেয়। অস্বীকার করলে প্রধান শিক্ষককে তুলে নিয়ে চায়ের দোকানে আটক রেখে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়।
পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে রাত ১১টার দিকে বিএনপি নেতার হেফাজত থেকে প্রধান শিক্ষককে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় মেছড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শহীদ, হাড়িভাঙ্গা গ্রামের মো. আলম, আব্দুল আলিম, বেলাল হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক, মো. ইদ্রিস আলী, মো. সাকমান আলী মাতবর, মো. নূর ইসলাম, মো. মযুর সুভার, মো. জহির উদ্দিন, গোটিয়া গ্রামের মো. মজনু শেখ ও মো. কাশেমের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম মল্লিক।
অভিযোগের বিষয়ে শহিদুল ইসলাম শহীদ বলেন, ‘থানায় অভিযোগ দিয়েছে কি না, আমি জানি না। বর্তমানে আমি অসুস্থ, এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।’
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, ‘প্রধান শিক্ষককে আটকে রাখা হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন। পরে বিএনপি নেতার সঙ্গে কথা বলে প্রধান শিক্ষককে বাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

